Advertisement
E-Paper

রাস্তার উপরেই চলছে ইমারতির ব্যবসা, দুর্ঘটনা ঘটলেও চুপ প্রশাসন

রাস্তার ধারে নয়, সরাসরি রাস্তা উপরেই চলছে ব্যবসা। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের উপর ইট, বালি, স্টোনচিপসের ব্যবসার জেরে দুর্ঘটনার ছবিটা নতুন নয়। কিন্তু তাতে কী! দুর্ঘটনার পর দু-একদিন একটু সামলে চলা ব্যস, ফের আগের অবস্থাই বহাল হয়ে যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:৫৮
সিরিষ মোড়ে রাস্তার পাশে রাখা হয়েছে বালি ও স্টোনচিপস্।

সিরিষ মোড়ে রাস্তার পাশে রাখা হয়েছে বালি ও স্টোনচিপস্।

রাস্তার ধারে নয়, সরাসরি রাস্তা উপরেই চলছে ব্যবসা। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের উপর ইট, বালি, স্টোনচিপসের ব্যবসার জেরে দুর্ঘটনার ছবিটা নতুন নয়। কিন্তু তাতে কী! দুর্ঘটনার পর দু-একদিন একটু সামলে চলা ব্যস, ফের আগের অবস্থাই বহাল হয়ে যায়।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ এবং পাথরপ্রতিমায় গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দখল করে দিনের পর দিন চলেছে ইমারতির ব্যবসা। রাস্তার উপরেই ফেলে রাখা বালি, স্টোনচিপসের জেরে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। যানচালক থেকে পথচারী সকলেরই অভিযোগের আঙুল পুলিশ-প্রশাসনের দিকে। অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসনকে নিয়মিত ‘নজরানা’ পৌঁছে দিয়েই রাস্তার উপরে চলে ব্যবসা। ফলে পুলিশ-প্রশাসনের নীরব দর্শক হয়ে থাকা৩ই স্বাভাবিক। যার সুযোগে বেপরোয়া ইমারতির ব্যবসায়ীরা। যদিও এ ধরনের অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন মহকুমার প্রশাসনিক ও জেলা পুলিশ কর্তারা। মহকুমাশাসক রাহুল নাথ এবং জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পশ্চিম) চন্দ্রশেখর বর্ধন বলেন, ‘‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

কাকদ্বীপ নতুন রাস্তার মোড় থেকে গঙ্গাধরপুর, প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তায় দু’টি পঞ্চায়েত এলাকা পড়ে। কোথাও রাস্তার এক তৃতীয়াংশ, কোথাও রাস্তার প্রায় অর্ধেক জুড়ে অবাধে ইট, বালি এবং পাথর ফেলে রেখে কারবার চালাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা সঞ্জয় দাসের কথায়, ‘‘রাস্তার বেশ কিছুটা দখল করে নিয়েছে ওরা। তাতে গাড়ি চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে তেমনি দুর্ঘটনাও বাড়ছে। শিরিষ মোড়ের কাছে এর আগে বাস ও ট্রেকার দুর্ঘটনা হয়েছে। প্রশাসনের কর্তাদের বার বার বিষয়টি জানানো হয়েছে।কিন্তু ব্যবস্থা যে নেওয়া হয়নি তা রাস্তায় ঘুরলেই বোঝা যায়।’’

Advertisement

কাজলের মোড়ে ইট রাখার ফলে রাস্তা সরু হয়ে গিয়েছে।

শিরিষ মোড়ের কাছে যেতে দেখা গেল রাস্তার প্রায় অর্ধেক জুড়ে পড়ে পাথর ও বালির স্তূপ। সে সব পাশ কাটিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। গা়ড়ির চাকায় রাস্তার উপর ছড়িয়ে থাক পাথর এদিক ওদিক ছিটকে পড়ছে।

স্থানীয় এক দোকানদার জানান, দিন কয়েক আগে এমনই পাথর ছিটকে জখম হয়েছে একটি বাচ্চা ছেলে। তা ছাড়া মোটরবাইক নিয়েই কয়েকজন পিছলে গিয়েছে। সাবধান না হলেই ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল দাস বলেন, ‘‘ব্যবসার কাজে আমাকে প্রতিদিনই মোটরবাইক নিয়ে গঙ্গাধরপুরের দিকে যেতে হয়। বালি এবং নুড়ি পাথরে চাকা পিছলে পড়ে গিয়েছি দু’বার।’’ সমস্যা কেবল বাইক বা সাইকেল আরোহীদের নয়, অ্যাম্বুল্যান্স, বাসেরও। দিনের বেলায় তবু চোখে দেখা যায়, রাতের অন্ধকার রাস্তায় পিচের রঙের সঙ্গে পাথরের রং মিশে যাওয়ায় অনেক সময় ঠাহর করা যায় না। ফলে দুর্ঘটনা ঘচে। জানালেন গাড়ির চালকেরা।

কাকদ্বীপ থেকে পাথরপ্রতিমায় ওই রাজ্য সড়কে দূরপাল্লার বেশ কয়েকটি রুটের গাড়ি চলে। হাওড়া এবং কলকাতা ছাড়া ডায়মন্ড হারবার থেকেও চলে বেশ কিছু এক্সপ্রেস বাস। বিবেকানন্দ পঞ্চায়েতের মধ্যে কাজলের মোড়, শিবপুর-সহ অন্তত ১৫টি জায়গায় দেখা গেল রাস্তার উপরে রাস্তার উপর ইট ও বালি ফেলে রাখা হয়েছে। বাস মালিকদের সংগঠনের তরফে অভিযোগ, কেবল কাকদ্বীপ নয়। গঙ্গাধরপুরের সেতু পেরিয়ে পাথরপ্রতিমা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত অসংখ্য জায়গায় রাস্তা জুড়ে অবাধে চলছে ইমারতির জিনিসের ব্যবসা। মেশিনভ্যান বা ছোট গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাস্তার উপরেই চলে লোডিং, আনলোডিং।

ছবি: শান্তশ্রী মজুমদার।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy