‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃত্যুর ঘটনা যেখানে যেখানে প্রকাশ্যে আসছে, সেখানে সেখানে পৌঁছে যাচ্ছেন স্থানীয় স্তরের তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু এই পরিবারগুলির পাশে দীর্ঘমেয়াদি ভাবে পাশে দাঁড়াতে পৃথক ‘টিম’ গঠন করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, মুখপাত্রেরা ভাগাভাগি করে পৌঁছে গেলেন উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলির পাঁচটি পরিবারের কাছে।
পানিহাটির প্রদীপ করের বাড়িতে যান ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক এবং রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। উল্লেখ্য, ‘এসআইআর আতঙ্কে’ প্রথম মৃত্যু হয়েছিল প্রদীপের। পরের দিন আগরপাড়ায় মৃতের পরিবারের সঙ্গে গিয়ে দেখা করেছিলেন অভিষেকও। ফের তাঁর বাড়িতে নেতাদের পাঠালেন তিনি।
‘এসআইআর আতঙ্কে’ টিটাগড়ে মৃত কাকলি সরকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। ছিলেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীও।
হুগলির ডানকুনিতে মৃত বৃদ্ধা হাসিনা বেগমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং টিএমসিপি নেতা সুদীপ রাহা। শেওড়াফুলি গড়বাগানের যৌনপল্লিতে আত্মঘাতী যৌনকর্মী বীতি দাসের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন চাঁপদানির বিধায়ক অরিন্দম গুঁইন এবং টিএমসিপির প্রাক্তন সভাপতি জয়া দত্ত।
আরও পড়ুন:
উলুবেড়িয়ার জাহির মালের বাড়িতে পৌঁছেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী পুলক রায় এবং তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ-সহ আরও যেখানে যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে, সেখানেও যাবেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা।
সূত্রের খবর, প্রতিটি পরিবারের হাতেই আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফে। কত অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে তা আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলের তরফে বলা হয়নি। তবে তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রতিটি পরিবারের হাতে দুই লক্ষাধিক টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শাসকদলের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে, ওই পরিবারগুলির যে কোনও অসুবিধায় তৃণমূল পাশে থাকবে। একাধিক পরিবারে পড়ুয়া রয়েছে। তাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে যাতে কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি না-হয়, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল চাইছে, এই পরিবারগুলির সঙ্গে সমন্বয় রাখতে। স্থানীয় স্তরেও নেতৃত্বকে সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার এসআইআর নিয়ে আতঙ্কের প্রতিবাদে কলকাতায় মিছিল করেছিল তৃণমূল। সেই মিছিলে হেঁটেছিলেন দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা এবং ‘সেনাপতি’ অভিষেক। মিছিল শেষে জোড়াসাঁকোতে বক্তৃতা করতে গিয়ে অভিষেক কার্যত ঘোষণাই করে দিয়েছেন, আগামী দু’মাসের মধ্যে দিল্লিতে অভিযানে যাবে তৃণমূল। তৃণমূলের অনেকে মনে করছেন, দিল্লির সেই কর্মসূচিতে শাসকদল নিশানা করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। সে কথা মাথায় রেখেই পরিবারগুলিকে ‘আগলে’ রাখতে চাইছে দল। মৃতদের পরিজনদেরও রাজধানীতে হাজির করানো হতে পারে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা