সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের দাবিতে আগামী ২৭ জানুয়ারি দেশ জুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স (ইউএফবিইউ)। সে বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নৈতিক সমর্থন চেয়ে চিঠি দিল অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স কনফেডারেশন (এআইবিওসি)-এর রাজ্য শাখা। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো ওই চিঠিতে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে থাকা পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহের দাবি বাস্তবায়নের জন্য শেষ পর্যন্ত ধর্মঘটের পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যাঙ্ককর্মীরা। তবে মুখ্যমন্ত্রী আদৌ সেই ধর্মঘটে সমর্থন দেবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাংলার রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, বন্ধ বা ধর্মঘট নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান।
ব্যাঙ্ক সংগঠনের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস্ অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ)-এর সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা ও লিখিত আশ্বাস সত্ত্বেও পাঁচ দিনের কাজের সপ্তাহ চালু হয়নি। প্রায় দু’বছর ধরে এই প্রস্তাব কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের কাছে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে একটি যৌথ নোটে এই দাবি সরকারের কাছে পাঠানো হলেও, লাভ হয়নি। এর ফলে সারা দেশের ব্যাঙ্ক কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে বলে দাবি সংগঠনের। এআইবিওসি-র রাজ্য নেতাদের কথায়, পাঁচ দিনের কাজের সপ্তাহ চালু হলেও কর্মঘণ্টা কমবে না। বরং সোমবার থেকে শুক্রবার প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪০ মিনিট করে কাজ বাড়ানোর প্রস্তাবে ইউনিয়নগুলির সম্মতি রয়েছে, যাতে মোট কর্মঘণ্টা অপরিবর্তিত থাকে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
সংগঠনের মতে, করোনা পর্বে এবং তার পরবর্তী সময়ে ব্যাঙ্ক কর্মীদের উপর কাজের চাপ বহুগুণ বেড়েছে। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, কৃষক ঋণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অর্থ সাহায্য, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক কর্মীরাই মূল ভরসা। অথচ বহু সরকারি দফতর, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই পাঁচ দিনের কাজের সপ্তাহ চালু হলেও ব্যাঙ্ক কর্মীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই অবস্থাকে বৈষম্যমূলক বলেই মনে করছে এআইবিওসি।মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণত কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, এমন ধর্মঘটের বিরোধিতা করেন। তবু ব্যাঙ্ক কর্মীদের ন্যায্য দাবির প্রতি তাঁর নৈতিক সমর্থন ব্যাঙ্ককর্মীদের মনোবল বাড়াবে। একই সঙ্গে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ধর্মঘট সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ভাবেই হবে। সাধারণ মানুষ, কৃষক, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও সরকারি প্রকল্পের স্বার্থ মাথায় রেখেই আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনের।
ব্যাঙ্ক সংগঠনের নেতা শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার আসলে সরকারি ব্যাঙ্কগুলি বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে মমতার দলের সাংসদেরা যদি সংসদে আমাদের দাবিগুলি সমর্থন করেন, তা হলে উপকৃত হব। তাই চিঠি দিয়েছি।"
ঘোষিত ভাবে মুখ্যমন্ত্রী যে কোনও ধরনের বন্ধ ও ধর্মঘটের বিরোধী। ২০০৯ সাল থেকে বন্ধ রাজনীতি থেকে সরে এসেছে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর বন্ধ-ধর্মঘটকে পশ্চিমবঙ্গে প্রশ্রয় দেননি তিনি। বরং কোনও বিরোধী দল বন্ধ বা ধর্মঘট ডাকলে গোটা প্রশাসনকে রাস্তায় নামিয়ে তা ব্যর্থ করার চেষ্টা করেছেন। সেই মমতা কি ব্যাঙ্ক ধর্মঘটকে নৈতিক সমর্থন দেবেন? প্রশ্ন তুলছে বাংলার রাজনৈতিক মহলের একাংশ।