ইরানের স্কুলে বোমা হামলার নেপথ্যে কে? দিন দুয়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার জন্য ইরানকেই দুষেছিলেন। তবে তদন্তকারী দল ‘বেলিংক্যাট’-এর প্রকাশ করা এক সংক্ষিপ্ত ভিডিয়ো বলছে অন্য কথা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ সামরিক সংঘাতের শুরুর দিনেই ইরানের মিনাবে একটি স্কুলে বোমাবর্ষণ করা হয়। সেই হামলায় ১৫০ জনেরও বেশি নিহত হয়। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছাত্রী। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, দুই দেশের কেউই এর দায় স্বীকার করেনি। তবে আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর (ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স) এই হামলার তদন্ত চালাচ্ছে। শুধু তারা নয়, আরও অনেক নিরপেক্ষ সংস্থাই নিজেদের মতো করে ইরানের স্কুলে হামলার তদন্ত করছে। তেমন এক সংস্থা ‘বেলিংক্যাট’। সংবাদসংস্থা এপি ওই সংস্থার সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ওই হামলার নেপথ্যে যে সব প্রমাণ উঠে আসছে, তা থেকে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে আমেরিকাই দায়ী।
বিশেষজ্ঞদের বয়ান বিশ্লেষণ করে সংবাদসংস্থা এপি জানাচ্ছে, ওই স্কুলের উপর একের পর এক বোমা ফেলা হয়েছিল। হামলার দিনে তোলা একটি ভিডিয়োর তিন সেকেন্ডের ক্লিপ প্রকাশ করেছে। সেই ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, স্কুলের উপর আকাশ থেকে গোলাবারুদ পড়ছে। ওই গোলাবারুদকে শক্তিশালী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হিসাবে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারী দলের গবেষক ট্রেভর বল। এই ক্ষেপণাস্ত্র কেবল আমেরিকার কাছেই রয়েছে, যা তারা এই যুদ্ধে ব্যবহার করছে। উল্লেখ্য, টমাহক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। ২৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতেও নিখুঁত নিশানা করতে পারে এই অস্ত্র।
আরও পড়ুন:
আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতরের তদন্তের রিপোর্টেও হামলার নেপথ্যে মার্কিন বাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক তদন্তের পর মনে হচ্ছে, আমেরিকার বোমাই পড়েছে স্কুলটির উপর। তবে তদন্ত চলছে। তার মধ্যেই ‘বেলিংক্যাট’-এর দাবি প্রকাশ্যে এল। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন, ‘‘এটা ইরানের কাজ। ওদের দেশের স্কুলে হামলা চালিয়েছে ওরাই। কারণ, অস্ত্র নিশানায় ওরা খুব একটা দড় নয়। অন্যত্র নিশানা করতে গিয়ে নিজেদের দেশের স্কুলেই হামলা চালিয়েছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!
-
ইরানের বন্দরে একের পর এক জাহাজে আগুন! লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা ইজ়রায়েলের, পশ্চিম এশিয়ায় আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
-
‘আমেরিকার সামনে দুই বিকল্প, বলও ওদের কোর্টে’! যুদ্ধ নিয়ে প্রস্তাব ফেরাতেই ট্রাম্পকে বার্তা ইরানের, কোন দিকে ইঙ্গিত
-
‘আমরা জলদস্যুই’! হরমুজ়ে ইরানি জাহাজের ‘দখল’ প্রসঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশংসা করলেন ট্রাম্প