সৌদি আরবের সরকারি সংস্থা আরামকো সোমবার তাদের দু’টি তৈল ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিল। সৌদির সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সোমবার এ কথা জানিয়েছে। ঘটনাচক্রে, আরামকোর তেল শোধনাগারে ইরানের হামলার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। যদিও সরকারি স্তরে এমন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়নি।
গত সোমবার ইরান থেকে উড়ে আসা দু’টি ড্রোন সৌদির পূর্বাঞ্চলের রাস টানুরা শহরে অবস্থিত আরামকোর তেল পরিশোধনাগারকে নিশানা করে। তার পরে তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের উপর বিধিনিষেধ জারি করে। বুধবার ফের রাস টানুরায় হামলা হয়। রয়টার্সে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ঠিক কোন ক্ষেত্রগুলোতে এবং কতটা উৎপাদন কমানো হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। আরামকো তার অপরিশোধিত তেলের মজুত রাস টানুরা থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠিয়ে দিয়েছে বলেও প্রকাশিত খবরে দাবি।
সৌদির পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা পরিশোধনাগারটি পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম তৈলশোধনাগারগুলির একটি। প্রতি দিন এখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিশোধিত হয়। প্রসঙ্গত, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বার বার ‘আক্রান্ত’ হচ্ছে সৌদি আরব। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে ইরানের উপর হামলার পরে প্রথম প্রত্যাঘাতই হয়েছিল সৌদিতে। সম্প্রতি এক রিপোর্টে দাবি করা হয়, সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনই নাকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন ইরানে হামলার জন্য। সে কারণেই তেহরান বার বার নিশানা করছে রিয়াধকে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর আগে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৭০ মার্কিন ডলার। সংঘাতের পরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯২ মার্কিন ডলার। সৌদির তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্তে তা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।