ইরান আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা কার্যত উড়িয়ে দিলেও এখনই হাল ছাড়তে নারাজ ইরান। সংবাদসংস্থা রয়টার্স পাকিস্তানের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ইরানের তরফে ইতিবাচক বার্তা পেয়েছে ইসলামাবাদ। তাই ইসলামাবাদের শান্তিবৈঠক যখনই শুরু হোক, ইরানের প্রতিনিধিদল সেই বৈঠকে যোগ দেবে বলেই মনে করছে পাক প্রশাসন।
পাক সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্সের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে,
“আমরা ইরান থেকে ইতিবাচক বার্তা পেয়েছি। এখনও বিষয়টি চূড়ান্ত নয়। তবে কাল
(মঙ্গলবার) বা পরে যবেই বৈঠক হোক, তারা (ইরান) যাতে সেখানে থাকে, তার চেষ্টা আমরা
করছি।” পাকিস্তানের ওই সূত্রটি এ-ও দাবি করেছে যে, বৈঠকে দু’পক্ষকে বসানোর জন্য তেহরান এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ইসলামাবাদ।
আগামী বুধবার আমেরিকা-ইরানের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরোচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে হতে চলা দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠকে ইরান যোগ না-দিলে পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আবহে ব্লুমবার্গ-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে চাইছেন না। তবে ইসলামাবাদের শান্তিবৈঠকে যোগ দিতে মঙ্গলবার পাকিস্তানে যাচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তবে ইরান এই বৈঠকে যোগ না-দেওয়ার ইঙ্গিতই দিয়েছে।
সোমবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের ঘালিবাফ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানিয়েছেন, হুমকি দিয়ে তাঁদের আলোচনার টেবিলে বসানো যাবে না। একই সঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে তিনি বলেছেন যে, “গত দু’সপ্তাহে যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার প্রস্তুতি নিয়েছি।” তাঁর এই বার্তা ফের সংঘাত শুরুর ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে। সমাজমাধ্যমে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার লিখেছেন, “যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে নিজের কল্পনায় আত্মসমর্পণের টেবিল বানাতে চাইছেন। কিংবা তাঁর লক্ষ্য হল, যুদ্ধ শুরুর নতুন বাহানা খোঁজা।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “হুমকি দিয়ে আলোচনায় বসতে বলা হলে আমরা তা মানব না।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
০৮:৩১
‘যুদ্ধে জিতছি’, ঘোষণা করলেন ট্রাম্প, হুমকি দিয়ে আলোচনার টেবিলে বসানো যাবে না! সংঘাতের বার্তা দিল ইরানও -
ওমান প্রান্ত দিয়ে জাহাজ গেলেই তো মিটে যায় সমস্যা! তবু কোন সূত্রে হরমুজ়ে ‘অ্যাডভান্টেজ’ পায় ইরান? কোথায় আতঙ্ক?
-
চালাকির চেষ্টা করলেই ঝাঁপাব পুরো শক্তি দিয়ে, আমরা তৈরি! দ্বিতীয় বৈঠকের দিনক্ষণ নিয়ে সংশয়ের মধ্যেই তোপ ইরানের
-
‘আমেরিকা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে’, আবার হরমুজ় অবরোধের ঘোষণা ইরানের! নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা
-
ট্রাম্পের ‘ঘাড়ে বন্দুক রেখে’ শত্রুদের খতম! পারস্যে শান্তি এলে আমেরিকার ‘বিশ্বাস’ ভাঙবেন ইহুদি প্রধানমন্ত্রী?