ফের যুদ্ধজয়ের দাবি শোনা গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে। মঙ্গলবার (ভারতীয় সময় অনুসারে) সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, “আমরা একটা যুদ্ধ বিশাল ভাবে জিততে চলেছি।” অন্য একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করার জন্য তাঁর উপর কোনও চাপ নেই। তবে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের বোঝাপড়া খুব দ্রুতই হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবারই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, কোনও চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধবিরতি শেষ হলে প্রচুর বোমা বিস্ফোরণ শুরু হবে। একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কী হবে? ট্রাম্প বলেন, ‘‘তখন প্রচুর বোমা ফাটবে।’’ একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, ইরান ইসলামাবাদে আয়োজিত শান্তিবৈঠকে যোগ দেয় কি না, সে দিকে তাঁরা নজর রাথছেন।
ইরান অবশ্য শান্তিবৈঠকে যোগদানের সম্ভাবনা কার্যত খারিজ করে দিয়েছে। সে দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের ঘালিবাফ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানিয়েছেন, হুমকি দিয়ে তাঁদের আলোচনার টেবিলে বসানো যাবে না। একই সঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে তিনি বলেছেন যে, “গত দু’সপ্তাহে যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার প্রস্তুতি নিয়েছি।” তাঁর এই বার্তা ফের সংঘাত শুরুর ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
সমাজমাধ্যমে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার লিখেছেন, “যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে নিজের কল্পনায় আত্মসমর্পণের টেবিল বানাতে চাইছেন। কিংবা তাঁর লক্ষ্য হল, যুদ্ধ শুরুর নতুন বাহানা খোঁজা।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “হুমকি দিয়ে আলোচনায় বসতে বলা হলে আমরা তা মানব না।”
গত ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে প্রথম দফার শান্তি আলোচনা হয়েছিল। প্রায় ২১ ঘণ্টা বৈঠকের পরে কোনও সমাধানসূত্র ছাড়াই তা শেষ হয়েছিল। এ দিকে দু’দেশের মধ্যে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদও ফুরিয়ে আসছে। আগামী বুধবার আমেরিকা-ইরানের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরোচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে হতে চলা দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠকে ইরান যোগ না-দিলে পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
ওমান প্রান্ত দিয়ে জাহাজ গেলেই তো মিটে যায় সমস্যা! তবু কোন সূত্রে হরমুজ়ে ‘অ্যাডভান্টেজ’ পায় ইরান? কোথায় আতঙ্ক?
-
চালাকির চেষ্টা করলেই ঝাঁপাব পুরো শক্তি দিয়ে, আমরা তৈরি! দ্বিতীয় বৈঠকের দিনক্ষণ নিয়ে সংশয়ের মধ্যেই তোপ ইরানের
-
‘আমেরিকা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে’, আবার হরমুজ় অবরোধের ঘোষণা ইরানের! নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা
-
ট্রাম্পের ‘ঘাড়ে বন্দুক রেখে’ শত্রুদের খতম! পারস্যে শান্তি এলে আমেরিকার ‘বিশ্বাস’ ভাঙবেন ইহুদি প্রধানমন্ত্রী?
-
প্রথমে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর, ৬০ দিনেই ইরান-আমেরিকার চুক্তি পাকা হতে পারে! কোন কৌশলে এগোচ্ছে পাকিস্তান? নেপথ্যে কে