নির্দেশ না-মানলে বিভাগীয় তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে। এ বার তা নিয়ে সকল জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপারকে সতর্ক করে দিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের সময়ে যেন কোনও বোমা বা পিস্তলের খবর না-পাওয়া যায়, তা নিয়েও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, বোমা এবং পিস্তল যথাসম্ভব বাজেয়াপ্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
শুধু ভোটের সময়ে নয়, ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়েও রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সূত্রের খবর, বৈঠকে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে যে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেই বিষয় উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। গোটা দেশ দেখেছিল ভোট-পরবর্তী হিংসার ছবি।’’ কমিশনের নির্দেশ, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না-হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকেই।
অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন, বৈঠকে জানালেন জ্ঞানেশ। তাঁর কথায়, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করবে না পুলিশ।’’ বৈঠকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘‘কোনও সভ্য সমাজে ভোটের সময় কেন গোলাগুলি চলবে?’’ জ্ঞানেশের সংযোজন, এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে।
সোমবার দুপুরে রাজ্যের সকল জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেই জেলাশাসক এবং জেলার পুলিশকর্তাদের কড়া বার্তা দিয়ে রাখেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সূত্রের খবর, জ্ঞানেশের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ ওই বৈঠক স্পষ্ট করে দেয়, নির্বাচনে কোথাও কোনও ভুয়ো সংবাদ দেখলে, সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে এফআইআর রুজু করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
রবিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছেছেন জ্ঞানেশ। তাঁর সঙ্গে দুই কমিশনারও এসেছেন। সোমবার থেকে দফায় দফায় বৈঠক শুরু করেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। দুপুরে প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, ওই বৈঠক চলাকালীন ‘ধমক’ খান রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন আধিকারিক। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ওই বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলকেও ভর্ৎসনা করেন বলে সূত্রের দাবি।
কমিশনের ওই সূত্রের দাবি, বৈঠকে রাজ্যের আধিকারিকদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়া হয়েছে, যদি কেউ ভাবেন, দেড় মাসের জন্য কমিশন সক্রিয়, তার পরে আর নয়, তা হলে সেটা একেবারে ভুল ভাবনা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা আধিকারিক বলেন, “কমিশন বলেছে, ইচ্ছাকৃত গরমিল বা গাফিলতি প্রমাণ হলে, এমন জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে, যেখান থেকে ফেরার সুযোগ থাকবে না।” সূত্রের দাবি, ‘নার্কোটিক্স অ্যাডভাইসরি কমিটি’ একমাত্র এ রাজ্যে কেন নেই, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ। শুধু তা-ই নয়, সূত্রের আরও দাবি, রাজ্যে পিআইটিএনডিপিএস আইনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা কেন হয়নি, প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। এটি একটি কেন্দ্রীয় আইন। মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনে এই আইনের সাহায্যে আগাম আটক (প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন) সম্ভব।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা