সালিশি সভায় মারধরে প্রৌঢ়ের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হলেন কলকাতা পুলিশের এক কর্মী ও তাঁর ভাই। পূর্ব বর্ধমানের কালনা থানার অকালপৌষ পঞ্চায়েতের ঝিকড়া এলাকার ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম রউফ শেখ ও ইউসুফ শেখ। ঝিকড়া গ্রামেই তাঁদের বাড়ি। মৃত প্রৌঢ় জুমু শেখ একই গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ মর্গে মৃত ব্যক্তির দেহের ময়নাতদন্ত হয়। পুলিশ দুই ধৃতকে কালনা মহকুমা আদালতে পেশ করলে বিচারক তাদের ৫ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন ।
কালনার অকালপৌষ পঞ্চায়েতের ঝিকড়া গ্রামে বাসিন্দা ইউসুফ শেখ। ঢালাই রাস্তা ও জলনিকাশি নিয়ে প্রতিবেশী জুমু শেখের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। মঙ্গলবার দুই পক্ষকে নিয়ে এলাকায় সালিশি সভা বসে। মীমাংসা চলাকালীন ফের দু’পক্ষের মধ্যে অশান্তি বাধে। অভিযোগ, ওই সময়েই সেখানে থাকা প্রৌঢ় জুমু শেখকে ব্যাপক মারধর করে রউফ শেখ ও তার ভাই ইউসুফ শেখ। মারধরে মারাত্মক জখম হন জুমু শেখ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে বৈদ্যপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। খুনের অভিযোগে রউফ শেখ ও তাঁর ভাই ইউসুফ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নেমে কালনা থানার পুলিশ। গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশে কর্মরত রউফ শেখ এবং তাঁর ভাই তথা সরকারি দফতরে কর্মরত ইউসুফ শেখকে।
কালনা আদালতে হাজির করানোর সময় ধৃতেরা দাবি করেন, ‘‘আমরা দু’জনেই সরকারি চাকরি করি। তাই আমাদের ফাঁসানো হয়েছে। আমরা ওই ব্যক্তির গায়ে হাত দিইনি।’’