E-Paper

পরিযায়ীদের মন জয়ের চেষ্টায় সব পক্ষ

কালনা মহকুমায় কৃষির পরে বেশি সংখ্যক মানুষ নির্ভরশীল তাঁত শিল্পের উপরে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ধুঁকছে সেই শিল্প।

কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:১৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কাজের তাগিদে ওঁরা কেউ কেরলে, কেউ মুম্বইয়ে, কেউ গুজরাতে পাড়ি দিয়েছিলেন। কালনা মহকুমার চারটি বিধানসভায় পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কোথাও কম-বেশি ১৫ হাজার, কোথাও ২০ হাজারেরও বেশি। বিধানসভা ভোটের আগে তাঁদের ফিরিয়ে আনতে মরিয়া তৃণমূল এবং সিপিএম।

কালনা মহকুমায় কৃষির পরে বেশি সংখ্যক মানুষ নির্ভরশীল তাঁত শিল্পের উপরে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ধুঁকছে সেই শিল্প। তাঁতের শাড়ি বিক্রি করে লাভ না মেলায় হাজার হাজার তাঁত শিল্পী তাঁতঘর বন্ধ রেখে চলে গিয়েছেন ভিন্‌ রাজ্যে। অনেকের সঙ্গে রয়েছেন পরিবারের লোকজনও। এ ছাড়া, ১০০ দিনের কাজ, ফসলের লাভজনক দর ও জমিতে কাজ করে ভাল মজুরি না মেলায় অনেককে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। করোনা-কালে একাংশ ফিরে এলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই ফের পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে যান তাঁরা। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু বিধানসভায় পরিযায়ীদের সংখ্যা এতই বেশি যে, তাঁদের ভোট নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে। তাই পরিযায়ীদের ফিরিয়ে তাঁদের ভোট নিজেদের বাক্সে টানতে উদ্যোগী হয়েছে তৃণমূল।

পূর্বস্থলী দক্ষিণের নাদনঘাট পঞ্চায়েতে প্রচুর পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি। পূর্বস্থলী ১ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি রাজকুমার পাণ্ডে বলেন, ‘‘কোন এলাকায় কত পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন, তার তালিকা আমাদের কাছে আছে। বুথের নেতারা তাঁদের ফোন করে বাড়ি ফিরে ভোট দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন। সাড়া দিয়ে অনেকে বাড়ি ফিরেছেন। অনেকে ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’’ তাঁর দাবি, এসআইআর চলাকালীন পরিযায়ীদের অনেকেই ভিন্‌ রাজ্য থেকে এসে শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন। বিস্তর ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাঁদের। এসআইআরে বহু পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের নাম বাদ পড়েছে। দল তাঁদের দুর্ভোগের কথা স্মরণ করিয়ে ভোটের প্রচার চালাচ্ছে।

কেরলে নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এই এলাকার কালো মণ্ডল, জাফর মণ্ডল, ইব্রাহিম শেখ, মাসুদ শেখের মতো অনেকেই বাড়ি ফিরেছেন ভোট দেওয়ার জন্য। সম্প্রতি গুজরাত থেকে বাড়ি ফেরা এই এলাকার সামাজুল মণ্ডল বলেন, ‘‘ওখানে জামাকাপড় তৈরির কাজ করি। ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি এসেছি। ভোট শেষ হলে ফিরে যাব।’’ কালনা ২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি প্রণব রায়ের দাবি, তাঁর এলাকায় প্রচুর পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। দল তাঁদের কাছে বাড়ি ফেরার আর্জি জানিয়েছে। ফিরতেও শুরু করেছেন তাঁরা। কালনা ১ ব্লকের পরিযায়ী শ্রমিক রামকৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘‘অন্য বার ভোট দেওয়ার তেমন তাগিদ থাকে না। এ বার ভোট নিয়ে টানটান উত্তেজনা রয়েছে। অনেক বিষয়ও রয়েছে। তাই এ বার ভোট দেওয়ার জন্য গ্রামে ফিরব।’’

পূর্বস্থলী উত্তরের সিপিএম প্রার্থী প্রদীপ সাহাও পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি জানান, বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় হাজার কুড়ি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। বামেরা ক্ষমতায় ফিরলে পরিযায়ী শ্রমিকদের ছেলে-মেয়েদের নিখরচায় লেখাপড়ার সুযোগ দেওয়া হবে, রেশনের ব্যবস্থা-সহ বেশ কিছু সুবিধা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের এ সব জানিয়ে ফিরে আসার আবেদন জানানো হয়েছে। নিজের সমাজ মাধ্যম পেজ থেকেও পরিযায়ীদের ঘরে ফেরার বার্তা পাঠিয়েছেন প্রদীপ। বিজেপির দাবি, পরিযায়ী শ্রমিকেরা তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি ধনঞ্জয় হালদারের মন্তব্য, ‘‘এলাকায় কাজ না মেলায় ওঁদের ভিন্‌ রাজ্যে যেতে হয়েছে। এ নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের মনে কষ্ট রয়েছে। ওঁদের ভোট আমাদের বাক্সে যাবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

migrant labour Kalna

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy