E-Paper

কদমা শিল্পের হাল ফেরাতে শুধুই আশ্বাস ভোটে

ইংরেজ আমলের আগে থেকেই মানকরের কদমার প্রসিদ্ধি রয়েছে। শুধু পুজো নয়। বিয়ে-তত্ত্বে বনেদি পরিবার কদমা ব্যবহার করত।

বিপ্লব ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৪
তৈরি হচ্ছে কদমা।

তৈরি হচ্ছে কদমা। নিজস্ব চিত্র ।

ভোট এলেই যেন প্রচারে উঠে আসে মানকরের কদমা শিল্প। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ কদমা নিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন সামাজিক মাধ্যমে। এখন বিধানসভা ভোট। এ বারের ভোটে এই কদমা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতি। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের তরফে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে কাজের কাজ কত হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে এ কাজে যুক্ত শিল্পীদের।

ইংরেজ আমলের আগে থেকেই মানকরের কদমার প্রসিদ্ধি রয়েছে। শুধু পুজো নয়। বিয়ে-তত্ত্বে বনেদি পরিবার কদমা ব্যবহার করত। এমন ভাবে কদমা তৈরি হত, তার ভিতরে অনায়াসে শাড়ি, আলতা, সিঁদুরের মতো উপকরণ ঢুকে যেত। এখনও বিশেষ কিছু পুজোয় এমন কদমা তৈরি হয়। মানকর হাটতলায় কদমা কারিগর সুনীল মণ্ডল জানান, একটা কদমা কাটতে কম করে তিন জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। তাঁদের বেতন আছে। খরচের বহর ঊধর্বমুখী। কদমা শিল্পী আলপনা মণ্ডল বলেন, ‘‘বিভিন্ন শিল্পে সরকার কম সুদে লোনের ব্যবস্থা করে। আমাদের কিছু নেই।’’

শিল্পীরা জানান, মানকরের কদমার বিশেষত্ব হল এর ভিতরটি ফাঁপা এবং গায়ে দাগ থাকে। অন্য জায়গার কদমার ভেতর শক্ত ও বাইরে গা মসৃণ হয়। শিল্পী সৌরভ দাস, গণেশ দাসরা বলেন, ‘‘কদমা শিল্পীদের বিশেষ সাম্মানিকের ব্যবস্থা করলে এই শিল্পে জোয়ার আসবে।’’ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষ জনের দাবি, নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এই কাজে আসতে চাইছেন না। যে হারে পরিশ্রম, তেমন পারিশ্রমিক মেলে না বলে অনেকেই মুখ ঘুরিয়েছেন। সরকারি সাহায্য পেলে এই শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে।

ভোটের আবহে সব রাজনৈতিক দলই শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে উদ্যোগী। সিপিএমের গলসি ১ এরিয়া কমিটির সম্পাদক হারাধন ঘোষ বলেন, ‘‘এই আমলে অনেক কিছুই ধ্বংস হয়েছে। এই কুটির শিল্পকে উজ্জীবিত করাই আমাদের প্রথম প্রয়াস থাকবে।’’ কংগ্রেসের বুদবুদ ব্লক সভাপতি জয়গোপাল দে বলেন, ‘‘মানকরের কদমাকে নিয়ে বর্ধমানের বুকে কদমা হাব হবে। বিশ্ববাজারে কদমা বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।’’ বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মার আশ্বাস, ‘‘আমরা ক্ষমতায় এলে কুটির শিল্পীদের সঠিক ব্যবস্থা করা হবে।’’

তৃণমূলের গলসি ১ ব্লক সভাপতি জনার্দন চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমাদের দল স্থানীয় শিল্পীদের অগ্রাধিকার দেয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মতো এখানেও কদমার জন্য জিআই আবেদন করা হয়েছে। আমাদের প্রার্থী ভোটে জিতে অবশ্যই ওঁদের পাশে দাঁড়াবেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Budbud

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy