বাড়িতে থাকতেন মা আর ছেলে। তাঁদের বিশেষ সাড়াশব্দ পেতেন না প্রতিবেশীরা। বুধবারের পর থেকে সেই বাড়ি আরও নিস্তব্ধ। সামনের রাস্তাতেও লোক চলাচল কম। সে দিন ওই বাড়ি থেকে ছেলের দেহ উদ্ধারের পরে আশি বছরের বৃদ্ধাকে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে রেখেছেন এক প্রতিবেশী। বার্নপুরের ইসমাইলে ইস্কো কর্মীর বাড়ির সামনে শুধু পাহারায় জনা দুই সিভিক ভলান্টিয়ার।
বুধবার ওই বাড়ির দোতলা থেকে উদ্ধার হয় ভেঙ্কটেশ্বর রাওয়ের রক্তাক্ত দেহ। বাড়িতে ঢুকে কে বা কারা বছর পঞ্চান্নর ওই ইস্কো কর্মীকে খুন করে গেল, দেড় দিন পেরিয়ে গেলেও সে নিয়ে ধন্দ কাটেনি। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার পরেই নিহতের মা শান্তাকুমারী দেবীকে এক প্রতিবেশী নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছেন। এ দিন বৃদ্ধা কাঁদতে-কাঁদতে বলেন, ‘‘মঙ্গলবার বিকেলে ছেলে ঘুমোচ্ছিল। কয়েক জন এসে ডাকাডাকি করায় ওকে ডেকে দিই। কেন যে ডাকলাম জানি না! ওদের ফিরিয়ে দিলেই ভাল করতাম।’’
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, সে দিন বিকেলে চার আগন্তুককে নিয়ে বাড়ির দোতলায় উঠে যান ভেঙ্কটেশ্বর। আর নামেননি। পর দিন সেই দোতলা থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পাশে পড়ে ছিল একটি রড। পুলিশের অনুমান, মাথায় ভারী আঘাতের জেরেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সে দিন ভেঙ্কটেশ্বরের কাছে যারা এসেছিল তাদের মধ্যে এক জন ছিল শ্যামবর্ণ, বেঁটে ও ভাল স্বাস্থ্যের। একটি মোটরবাইকে চড়ে এসেছিল সে।
পুলিশ জেনেছে, ওই ইস্কো কর্মীর বাড়ির একতলার একাংশ ভাড়া নিয়েছিল একটি লগ্নি সংস্থা। দোতলাটির একাংশও কোনও একটি বেসরকারি সংস্থা ভাড়া নিয়ে পরিষেবা কেন্দ্র খুলেছিল। সপ্তাহখানেক আগে দুই ভাড়াটেই উঠে যায়। পুলিশ নিহতের মায়ের কাছে জেনেছে, একতলার ভাড়াটে নিয়ে তাঁদের কোনও অভিযোগ ছিল না। তবে দোতলার ভাড়াটের সঙ্গে বকেয়া ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ ছিল। এডিসিপি (পশ্চিম) বিশ্বজিৎ মাহাতো বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘তদন্ত চলছে। নিহতের সঙ্গে যাঁদের পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল, তাঁদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’
ইস্কো সূত্রে জানা গিয়েছে, ভেঙ্কটেশ্বর সংস্থার সাধারণ কর্মী ছিলেন। কিন্তু প্রতিবেশীদের দাবি, বাড়ি, আসবাব-সহ জীবনযাত্রার মান দেখে তাঁদের ধারণা ছিল, তিনি ইস্কোর কোনও আধিকারিক। তদন্তে এই সব দিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আয়ের সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ, তা তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ। প্রতিবেশী দিলীপ দাস অবশ্য বলেন, ‘‘আমরা কখনও কারও সঙ্গে ওঁকে (ভেঙ্কটেশ্বর) বিবাদে জড়াতে দেখিনি।’’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বিচ্ছেদের মামলা চলছিল। স্ত্রী এসে পৌঁছননি। তবে এ দিন দুপুরে বিশাখাপত্তনম থেকে আসেন নিহতের দিদি ও জামাইবাবু। দিদি তুলসী কাঞ্চুমূর্তি বলেন, ‘‘ভাইয়ের এই পরিণতি হবে, স্বপ্নেও ভাবিনি।’’ পুলিশ তাঁদের হাতে দেহ তুলে দেয়। বিকেলে শেষকৃত্য হয়।