মোটা অঙ্কের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল মেটানোর আর্জিতে বিদ্যুৎ দফতরের তরফে বার বার মেসেজ পাঠানো হচ্ছে কালনা কলেজের অধ্যক্ষের কাছে। অথচ মেসেজে উল্লেখ করা মিটার আইডি নম্বরের কোনও মিটারই কলেজে নেই বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই বিভ্রান্তিতে আছেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে ডিরেক্টর অব পাবলিক ইনস্ট্রাক্টরের (ডিপিআই) কাছে নালিশ গিয়েছে। শনিবার কলেজ পরিচালন সমিতির বৈঠকে উঠে
আসে বিষয়টি।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, কলেজ চত্বর ও হস্টেল মিলিয়ে এক সময় বিদ্যুতের বিল অনেক বেশি আসত। কিন্তু সৌরপ্যানেল বসানোর পরে তা অনেকটা কমে যায়। এখন বিদ্যুৎ বিল শীতকালে ৪০-৫০ হাজার টাকা এবং গরমকালে ৭০-৮০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে গত তিন বছর ধরে বিদ্যুৎ দফতরের তরফে ৫০২৩৪৩৮৬১ নম্বর মিটারের নামে বকেয়া বিলের দাবি জানানো হচ্ছে যা কলেজের নয়।
প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাঁদের ধারণা ছিল, বিল না পেয়ে বিদ্যুৎ দফতরের
কর্মীরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কলেজে এলে ভুল বুঝতে পারবেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বকেয়া বিলের পরিমাণ বাড়তে থাকে। সম্প্রতি এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়, সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করতে হলে ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১,৬৫,৪৯৫ টাকা মেটাতে হবে। এ দিকে ডিপিআইয়ের কাছেও নালিশ যায়।
কলেজের অধ্যক্ষ তাপস সামন্ত বলেন, “আমরা বিদ্যুতে বিল মেটাচ্ছি না বলে খবর গিয়েছে ডাইরেক্টর অব পাবলিক ইনস্ট্রাক্টরের (ডিপিআই) কাছে। সম্প্রতি আমাকে বলাও হয়েছে বিদ্যুৎ দফতরের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিতে। এতেই বিড়ম্বনা বেড়েছে। বিষয়টি পরিচালন সমিতির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেখানে হাজির কালনার বিধায়ক বিষয়টি এ দিন বিদ্যুৎ দফতরের নজরে এনেছেন। আশা করছি সমস্যা মিটে যাবে।”
কলেজের এক শিক্ষক বলেন, “আমরা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি। আমাদের মনে হয় বিদ্যুৎ দফতর ডিপিআইকে মেসেজ দিয়েছে। না জেনে এমন নালিশ অপমানজনক বলে মনে হয়েছে।” কলেজ কর্তৃপক্ষের একাংশের ধারণা, বহু আগে হয়তো এই আইডি নম্বরে কোনও মিটার ছিল। তবে তা খুলে নেওয়া হলেও বিদ্যুৎ দফতরের নথিতে তা থেকে গিয়েছে। তাই হয়তো বকেয়া শোধ করার এসএমএস আসছে।
বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ বলেন, “বিষয়টি বিদ্যুৎ দফতরের কালনা ডিভিশনের নজরে আনা হয়েছে। সোমবার জানা যাবে।” বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার কালনা ডিভিশনের ম্যানেজার ওয়াসিম ফিরোজ মণ্ডল বলেন, “সোমবার অফিস খুললে বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে দেখে সিদ্ধান্ত হবে। যদি ভুল হয়ে থাকে, তা অবশ্যই সংশোধন করা হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)