Advertisement
E-Paper

চারটি অভিযোগের ভিত্তিতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য-সহ আরও দু’জনের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন কলকাতা হাই কোর্টে

চারটি অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। মূল অভিযোগ হল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের জমানায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় প্রভূত অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রমোশন ও নিয়োগের ক্ষেত্রে বেনিয়ম।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৩২
কলকাতা হাই কোর্ট।

কলকাতা হাই কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ফিন্যান্স অফিসারের বিরুদ্ধে এক রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টে। চারটি অভিযোগের ভিত্তিতে এই পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। মূল অভিযোগ হল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের জমানায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় প্রভূত অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রমোশন ও নিয়োগের ক্ষেত্রে বেনিয়ম। চলতি সপ্তায় এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথমত, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজবাটি ক্যাম্পাস এক ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পাস। এখানে স্ক্র্যাপ বস্তু বেচতে হলে রাজ্য সরকারের ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের নিয়ম মেনেই করতে হয়। ই-অকশন করতে হয় এবং সর্বোচ্চ দরপত্র (হায়েস্ট বিডার) দেওয়া সংস্থাকে দিতে হয়। কিন্তু এই উপাচার্যের আমলে তার কোনওটাই হয়নি বলে অভিযোগ। গত বছরের ৬ মার্চ অভ্যন্তরীণ কমিটির মাধ্যমে একটি নোটিস জারি করা হয়। পরের দিন অর্থাৎ ৭ই মার্চ স্পট অকশন করা হয়। সেই অকশনে সর্বোচ্চ দরপত্র(৫২ লাখ) এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরপত্রকে (৪৮ লাখ) না দিয়ে, তৃতীয় জনকে (৩৬ লাখ) দেওয়া হয়। সেখানেই ওঠে প্রশ্ন। এর পর নিয়ম ভাঙার অভিযোগ ওঠে উপাচার্য ও সেই অভ্যন্তরীণ কমিটির বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয়ত, ২০২৩ সালের অডিটে পশ্চিমবঙ্গের হিসাবরক্ষক বিভাগ (এজি বেঙ্গল) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরিসরে প্রায় ১০-১২ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ধরিয়ে দিয়ে সেগুলি ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হয়নি বলে অভিযোগ।

তৃতীয়ত, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে একটি ইসি বৈঠক হয়েছিল যেটি কোরাম পদ্ধতি অর্থাৎ সিদ্ধতার জন্য নিয়মানুযায়ী ন্যূনতম পক্ষে যে কয়জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন তার অভাব ছিল। তা সত্ত্বেও বৈঠকটি হয়। শুধুমাত্র একটি বিষয় খারিজ করে বাকি বৈঠকটি হয়। যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

চতূর্থ, ২০২৫ সালে প্রমোশনের ক্ষেত্রে এমন কিছু পদ তৈরি করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। অভিযোগ, একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারিকে একই দিনে দু’জায়গায় আবার নিয়োগ করা হয়েছে, দু’টি আলাদা বেতন সমেত। এবং একই সঙ্গে তার পেনশনটাও অক্ষত রয়েছে। অথচ রাজ্য সরকারের ২০১৭ সালের নিয়ম পরিষ্কার বলছে, এর কোনওটাই করা যায় না। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতির এক খোলা আখড়া হয়ে উঠেছে।

এই সমস্ত বিষয় জানিয়ে পুলিশ প্রশাসন ও শিক্ষা দফতরের প্রধান সচিবকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে তারাও চুপ। সে জন্যই কলকাতা হাই কোর্টে এই রিট পিটিশন আবেদন করা হয়েছে যাতে এই সমস্ত বিষয়ের সিবিআই তদন্ত হয় এবং পুলিশ প্রশাসন যেন ইতিমধ্যে লেখা চিঠিগুলির ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করেন। দোষীরা কেউ যেন ছাড় না পায়। চলতি সপ্তায় এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

Calcutta High Court bardhaman university Bardhaman financial corruption
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy