অবসর সময়ে বাবা আর দুই ভাইয়ের সঙ্গে খেতে গিয়ে চাষাবাদের কাজে হাত লাগানো, আবার মায়ের হেঁসেলের জন্য বাজার করা— সবই করতে হয় ছেলেটিকে। সব সামলেও এ বার সেই ছেলে, কাটোয়ার লোহাপাতা গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তাক মণ্ডল হাই মাদ্রাসা পরীক্ষায় জেলায় প্রথম ও রাজ্যে সম্ভাব্য ১৫-তম স্থান পেয়েছেন।
সিঙ্গী অঞ্চলের পাঁচপাড়া হাই মাদ্রাসার পড়ুয়া গোলামের প্রাপ্ত নম্বর ৮৮.৬ শতাংশ। গোলামের বাবা মোস্তাফা মণ্ডল পেশায় ভাগচাষি। গোপালের বাড়ির লোকেরা জানান, মাস আটেক আগে মোস্তাফা মণ্ডলকে সাপে ছোবল মারে। সেই সময় থেকেই সংসারের প্রায় অর্ধেক দায়িত্ব গোলামের উপর। মা শর্মিলা বিবি জানান, সকাল বেলায় সংসারের কাজকর্ম সেরে সাইকেলে করে স্কুলে যেত গোলাম। তবে স্কুল থেকে ফিরে সন্ধ্যে ৬টা থেকে ১১টা পর্য়ন্ত টানা পড়াশোনা।
স্কুলের শিক্ষক সুমন কুণ্ডু, কবির শেখ, নজমুল মণ্ডলরা নিখরচায় এই মেধাবী ছাত্রকে পড়াতেন। ভাল ফল করে তাই মাস্টারমশাইদের কথাই বারবার বলে চলেছেন গোলাম। তবে অঙ্কে ৮৬ পেয়েও সন্তুষ্ট নয় সে। তাই অঙ্কে পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জানাবে গোলাম।
তবে সব কাজ সামলে মাঝেসাঝে পাশের বাড়ির টেলিভিশনে ক্রিকেট দেখতে যায় গোলাম। আইপিএল নিয়েও সমান উৎসাহী সে। তার এই সাফল্যে খুশি গ্রামের বাসিন্দারাও। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা করতে চায় সে। তার প্রস্তুতিও এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সামনে যে ‘এখনও পথ হাঁটা বাকি।’