Advertisement
E-Paper

ডাকাতিতে জড়িত ছিল রেজাউল, জানান বিচারক

কেতুগ্রামে ছোট রেলে ধর্ষণের ঘটনায় শুক্রবার সাক্ষ্য দিলেন কাটোয়ার এসিজেএম (২) উদয় রানা। তিনিই ওই ধর্ষণ মামলার অভিযোগকারিণী ও তাঁর মেয়ের গোপন জবানবন্দি নিয়েছিলেন। কাটোয়া উপসংশোধনাগারে তাঁর উপস্থিতিতেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেন অভিযোগকারিণী ও তাঁর মেয়ে।

সৌমেন দত্ত

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০১৪ ০২:০১

কেতুগ্রামে ছোট রেলে ধর্ষণের ঘটনায় শুক্রবার সাক্ষ্য দিলেন কাটোয়ার এসিজেএম (২) উদয় রানা। তিনিই ওই ধর্ষণ মামলার অভিযোগকারিণী ও তাঁর মেয়ের গোপন জবানবন্দি নিয়েছিলেন। কাটোয়া উপসংশোধনাগারে তাঁর উপস্থিতিতেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেন অভিযোগকারিণী ও তাঁর মেয়ে। এ দিন সরকারি আইনজীবী কাঞ্চন মুখোপাধ্যায় বলেন, বিচারক আদালতের কাছে বিস্তারিত ভাবে সমস্ত কিছু জানিয়েছেন। আদালতে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক নিজেও বলেন, রেকর্ড নথিভুক্ত অফিসার হিসাবে অভিযোগকারিণী থেকে আসামী সবাই যা বলেছেন, তিনি তা লিখিত ভাবে জমা দিয়েছেন।

তবে অভিযুক্তদের অন্যতম আইনজীবী ধীরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেরার সময় আদালতের কাছে চমকপ্রদ কিছু তথ্য উঠে আসে। কাটোয়া উপসংশোধনাগারে অভিযুক্তদের শনাক্তকরণের পরে বিচারক উদয় রানা অভিযুক্তদের কাছে জানতে চান, কারও কোনও বক্তব্য আছে কি না? তখন রেজাউল মির্জা ওরফে বাবু বিচারককে জানান, তিনি ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ছিলেন না। তবে তিনি ট্রেন ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ দিন ধীরেন্দ্রনাথবাবু এর বিরোধিতী করে আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল এ রকম কোনও বয়ান বিচারকের কাছে দেননি। তখন উদয়বাবু বলেন, অভিযোগকারিণীর শনাক্তকরণের পরে স্বাভাবিক নিয়মে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসা করা হলে ওই উত্তর আসে। তা লিপিবদ্ধ করা হয়।

ধীরেন্দ্রনাথবাবুর এক প্রশ্নের উত্তরে উদয়বাবু জানান, গায়ে হাত দিয়ে অভিযুক্তদের চিনিয়ে দিয়েছে অভিযোগকারিণী ও তাঁর মেয়ে। ধীরেন্দ্রনাথবাবু প্রশ্ন, ওদের মুখ কী ঢাকা ছিল? জবাবে উদয়বাবু হাসতে হাসতে বলেন, আসামী না সাক্ষী- কাদের মুখ ঢাকার কথা জানতে চাইছেন? ধীরেন্দ্রনাথবাবু চুপ করে যান।

এ দিন নিজের এজলাস ছেড়ে বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ কাটোয়া ফাস্ট ট্রাক কোর্টে সাক্ষ্য দিতে যান উদয়বাবু। পরেশচন্দ্র কর্মকারের এজলাসে সাক্ষীর কাঠগড়ায় বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়ানোর পরে জেরা শুরু করেন সরকারি আইনজীবী কাঞ্চন মুখোপাধ্যায়। উদয়বাবু জানান, ছোট ট্রেন থেকে নামিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় তিনি গোপন জবানবন্দী নেন ও টিআই প্যারেড করান। লিখিত রিপোর্টগুলো তাঁরই হাতের লেখা। উদয়বাবুকে অহেতুক প্রশ্ন করায় আদালত অভিযুক্তদের আইনজীবীর উপর বারবার বিরক্তি প্রকাশ করছিল এ দিন। ফাস্ট ট্রাক কোর্টর বিচারক পরেশচন্দ্র কর্মকার অভিযুক্তদের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, তাড়াতাড়ি প্রশ্ন করুন। আপনি যে সব প্রশ্ন করছেন তা শুনানির সময় আদালতে বলবেন। উনি এ সব প্রশ্নের উত্তর জানবে কী করে? এ সব তো সাক্ষী আর আসামীর জানা কথা। উদয়বাবুও বলেন, আমাকে যা বলেছে, এক কান দিয়ে শুনেছি। আর এক হাত দিয়ে কলম চালিয়েছি। তবে আদালতের পরিকাঠামো না থাকায় গোপন জবানবন্দীর কোনও রেকর্ডিং করা যায়নি।

২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কাটোয়ামুখী আমোদপুর কাটোয়া ন্যারোগেজ লাইনের (এখন অবশ্য ব্রডগেজের কাজ চলছে) পাচুন্দি ও গোমাই স্টেশনের মাঝে ট্রেন আটকে একদল দুষ্কৃতী যাত্রীদের কাছে লুঠপাট চালায়। সেই সময় কানের দুল দিতে অস্বীকার করায় মেয়ের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে এক বিধবা মহিলাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ওই মহিলা ও তাঁর মেয়ে কাটোয়া উপসংশোধনাগারে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেন। পরে আদালতেও বিচারকের সামনে আসামীর কাঠগড়ায় থাকা রেজাউল মির্জা, নয়ন শেখ ও ফরিদ শেখকে অভিযোগকারিণী ও তাঁর মেয়ে চিহ্নিত করেন। ওই মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন, স্বপন শেখ, কায়েশ শেখ, নূর মহম্মদ, সেন্টু শেখ, কালাম শেখ। এই আটজনের মধ্যে রেজাউল, নয়ন, স্বপন ও সেন্টু জেল হেফাজতে রয়েছে। কায়েশ শেখ এখনও অধরা। ফরিদ ও কালাম পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। বাকিরা জামিনে রয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ ‘অতিরিক্ত চার্জশিট’ জমা দেয়। ফরেন্সিক রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই রিপোর্টে অভিযোগকারিণীর দেহরস ও সায়ায় বীর্যের নমুনা পাওয়া গিয়েছে।

katwa rape case saumen datta
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy