আসন্ন পুরভোটে শাসক দলের ‘বাহুবলের’ আশঙ্কা করছে কংগ্রেস-বিজেপি।
আসানসোল থেকে বালি—পুজোর মুখে রাজ্যের কর্পোরেশন নির্বাচনে তৃণমূল ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ জয় হাসিল করতে চাইছে বলে মনে করছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। প্রায় একই সুরে তৃণমূলের ‘তাণ্ডবের’ আশঙ্কা করছেন আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ও।
বুধবার অধীর দাবি করেন, ‘‘দলীয় প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র পেশ করতে পারছেন না। বিভিন্ন ব্লকে তৃণমূলের মাস্তান-বাহিনী এবং পুলিশ যৌথ ভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দিচ্ছে। পুলিশ সম্ভাব্য প্রার্থীদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখাচ্ছে।’’ বহরমপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দাবি করেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ দলীয় প্রার্থীদের জিতিয়ে আনার যে ‘সংস্কৃতি’ সিপিএম আমদানি করেছিল, আজ সেই সংস্কৃতি ফের ‘মহাবিক্রমে’ প্রতিষ্ঠিত করছে তৃণমূল।
আসানসোলে নির্বাচন নিয়েও কপালে ভাঁজ পড়েছে বিজেপি-র। নির্বিঘ্নে পুরভোটের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন বাবুল। দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বুধবার কলকাতায় তিনি বলেন, ‘‘পুরভোট রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে হয়। রাজ্য পুলিশ দলদাসে পরিণত হয়েছে। তাই, ভোট নির্বিঘ্নে করতে হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা দরকার।’’ তিনি জানান, এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করবেন তিনি, যাতে কেন্দ্রের কাছে বাহিনী চাওয়ার জন্য আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে শাসক দলের নেত্রীর উপরে ভরসা নেই অধীরের। তিনি স্পষ্ট বলছেন, ‘‘তৃণমূল নেত্রী নিজে সারদা থেকে রোজভ্যালি কাণ্ডে জড়িত। আমরা সবাই জানি। তাঁর কাছে কিছু আশা করা বোকামি!’’ তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূল দল এখন চোর, বালি খাদানের মাফিয়া, লোহা চোর, কয়লা চোর, সিন্ডিকেট মাফিয়ায় ভরে গিয়েছে। তৃণমূল নেত্রীর সুখের সংসারে মাফিয়া ও চোরেদের বাড়-বাড়ন্ত স্পষ্ট এবং যারা এক সময়ে তৃণমূল দলটিকে তৈরি করতে প্রাণ বিসর্জন করেছিল, ঘাম-রক্ত ঝরিয়েছিল আজ কিন্তু তাদের সামনের সারিতে দেখা যায় না। সামনের সারি চোর-মাফিয়ারা দখল করে নিয়েছে।’’