Advertisement
E-Paper

নম্বর ছাড়াই ছুটছে গাড়ি, নেই নজর

বছরখানেক আগের ঘটনা। সগড়ভাঙায় এক সাইকেল আরোহীকে চাপা দিয়ে চম্পট দেয় ডাম্পার। সেই ডাম্পার বা তার চালক-মালিকের আজ অবধি হদিস পায়নি পুলিশ। এমন ছোট-বড় দুর্ঘটনার পরে তড়িঘড়ি চম্পট দেওয়া ডাম্পার, ট্রাক ও ট্রাক্টরের সংখ্যা দিন-দিন বেড়ে চলেছে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল ও লাগোয়া এলাকায়। সেই সব গাড়িকে ধরতে হিমসিম খাচ্ছে পুলিশ-প্রশাসন।

সুব্রত সীট

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:১০
দুর্গাপুরের রাস্তায় নম্বরপ্লেট ছাড়া লরি। ছবি: বিকাশ মশান।

দুর্গাপুরের রাস্তায় নম্বরপ্লেট ছাড়া লরি। ছবি: বিকাশ মশান।

বছরখানেক আগের ঘটনা। সগড়ভাঙায় এক সাইকেল আরোহীকে চাপা দিয়ে চম্পট দেয় ডাম্পার। সেই ডাম্পার বা তার চালক-মালিকের আজ অবধি হদিস পায়নি পুলিশ। এমন ছোট-বড় দুর্ঘটনার পরে তড়িঘড়ি চম্পট দেওয়া ডাম্পার, ট্রাক ও ট্রাক্টরের সংখ্যা দিন-দিন বেড়ে চলেছে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল ও লাগোয়া এলাকায়। সেই সব গাড়িকে ধরতে হিমসিম খাচ্ছে পুলিশ-প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে খবর, শিল্পাঞ্চলে যাতায়াত করা এই ধরনের গাড়িগুলির একটি বড় অংশের কোনও নম্বরপ্লেট নেই। সে কারণেই এই পরিস্থিতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আসানসোল-রানিগঞ্জে ইসিএলের কোলিয়ারি এলাকায় ডাম্পারের রমরমা বহু দিনের। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বিভিন্ন বেসরকারি কল-কারখানা তৈরির পরে দুর্গাপুরেও ডাম্পারের ব্যবহার বাড়তে থাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতুড়িয়া-অঙ্গদপুর, বাঁশকোপা, কমলপুর বা পড়শি জেলা বাঁকুড়ার বড়জোড়ার বিভিন্ন কল-কারখানায় সাধারণত কাঁচামাল জোগান, উৎপাদিত পণ্য গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য ডাম্পারগুলি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া সিমেন্ট, বালি, পাথরকুচি-সহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী পরিবহণেও ডাম্পার কাজে লাগানো হয়।

বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় বেশ কিছু ডাম্পার, ট্রাক, লরি বা ট্রাক্টর নম্বরপ্লেট না লাগিয়েই পণ্য পরিবহণ করছে। পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি গাড়ির সামনে ও পিছনে নম্বরপ্লেট থাকা বাধ্যতামূলক। রাতে নজরে পড়ার জন্য নম্বরপ্লেটের চার পাশে আলোও থাকা দরকার। পরিবহণ দফতরের এক কর্তা জানান, এর থেকে গাড়ির নম্বর, কোন রাজ্য থেকে এসেছে, কী ধরনের গাড়ি— সবই জানা সম্ভব।

অথচ, দুর্গাপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় নম্বরপ্লেট ছাড়াই ডাম্পার, ট্রাক চলছে বলে অভিযোগ। পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের উপর দিয়ে যাওয়া জাতীয় সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বলে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সগড়ভাঙার স্টেশন রোডে সাইকেল আরোহীকে ডাম্পারের ধাক্কার পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পথ অবরোধও করেন। কিন্তু কোনও নম্বরপ্লেট না থাকায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাম্পার বা তার মালিকের হদিস পায়নি। মাস ছয়েক আগে একই ঘটনা ঘটে গোপালমাঠেও। একটি লরির ধাক্কায় গুরুতর জখম হন অন্ডালের শিবম ঘোষ। লরি নিয়ে চালক পালায়। ট্রাফিক পুলিশ লরিতে কোনও নম্বরপ্লেট দেখতে পাননি বলে জানান।

বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে ‘অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’র দুর্গাপুর শাখা। সংগঠনের তরফে সমীর বসু জানান, তাঁরা সম্প্রতি পথ নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা শিবির করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘এই ধরনের ডাম্পার, লরিগুলির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে পরিবহণ দফতর।’’ পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, এক শ্রেণির গাড়ি মালিক ইচ্ছে করেই নম্বরপ্লেট রাখেন না বা আলোর ব্যবস্থা করেন না। ফলে, কখনও দুর্ঘটনা ঘটলে পুলিশ-প্রশাসনকে এড়ানো যায়, আবার করও ফাঁকি দেওয়া যায়। তবে বাসিন্দাদের দাবি, পরিবহণ দফতরের তরফে জোরকদমে নজরদারি চালানো হলে এই ধরনের ডাম্পারের চলাচল বন্ধ করা সম্ভব। দুর্গাপুরের আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক সজল মণ্ডলের অবশ্য বক্তব্য, ‘‘অল্প সংখ্যক কর্মী থাকার জেরেই নিয়মিত অভিযান চালানো যায় না। তবে মাঝেসাঝে ধরপাকড় হয়।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy