Advertisement
E-Paper

বিজেপি-তৃণমূলে আঁতাত, দাবি অধীরের

পুরভোটে আসানসোলে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে গোপন আঁতাত হয়েছে বলে দাবি করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। রবিবার আসানসোলে দলের প্রার্থীদের নিয়ে সভায় তিনি শাসকদল সন্ত্রাস চালাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:২৫
দলের আহত প্রার্থীকে দেখতে হাসপাতালে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। —নিজস্ব চিত্র।

দলের আহত প্রার্থীকে দেখতে হাসপাতালে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। —নিজস্ব চিত্র।

পুরভোটে আসানসোলে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে গোপন আঁতাত হয়েছে বলে দাবি করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। রবিবার আসানসোলে দলের প্রার্থীদের নিয়ে সভায় তিনি শাসকদল সন্ত্রাস চালাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। যদিও অধীরের অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপি ও তৃণমূল নেতাদের দাবি, কংগ্রেসের পালে হাওয়া নেই বুঝে এমন সাফাই দিচ্ছেন তিনি।

পুরভোটে শাসকদল সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করবে, এমন অভিযোগ শনিবারই করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। তা শক্ত হাতে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। রবিবার সেই সন্ত্রাসের আশঙ্কা প্রকাশ করেই অধীর বিজেপি-তৃণমূল আঁতাতের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিজেপি এবং তৃণমূল পরস্পরের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না। এর থেকেই বুঝে নিন, এখানে বিজেপি-তৃণমূলের আঁতাত হয়েছে।’’ সে কারণেই এখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী এনে ভোট করানো হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘তাই সন্ত্রাস হবে ধরে নিয়েই আমাদের নিজ বলে সে সবের মোকাবিলা করতে হবে। তাতে আমরা আসানসোলে অঘটন হয়তো ঘটাতে পারব না। তবে অনেক ঘটনা ঘটিয়ে দেব।’’

এ দিন আসানসোলের রবীন্দ্রভবন প্রেক্ষাগৃহে বিকেল ৪টে নাগাদ কর্মিসভা করতে আসেন অধীর। তার অনেক আগে থেকেই মহকুমার নানা প্রান্ত থেকে দলের নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেন। সভা শুরুর আগেই প্রেক্ষাগৃহ ভরে যায়। বাইরেও কংগ্রেসের প্রচুর সদস্য-সমর্থক ভিড় জমান। দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অনেকের দাবি, সম্প্রতি আসানসোলে কংগ্রেসের কোনও কর্মসূচিতে এত ভিড় চোখে পড়েনি। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধীরও বলেন, ‘‘আমি আশা করিনি, এখানে এত কর্মী-সমাগম হবে। আমি আপ্লুত। মনে হচ্ছে এ বার পুরোভোট থেকেই আসানসোলে কংগ্রেস জেগে উঠবে।’’

সভায় দলের ৮৮ জন প্রার্থীর সঙ্গে পরিচয় করান কংগ্রেসের আসানসোল মহকুমা সভাপতি রবিউল ইসলাম। সব ক’টি আসনে প্রার্থী দিতে না পারা কারণ হিসেবে অধীরের অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনী ভয় দেখিয়ে কংগ্রেস প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা করতে দেয়নি। এমনকী, কয়েক জনের প্রার্থিপদ প্রত্যাহারও করিয়েছে। এর পরেও দলের ৮৮ জন প্রার্থী হওয়ায় আমরা খুশি।’’ কংগ্রেসের অভিযোগ, সম্প্রতি তাদের এক প্রার্থীকে মারধর করেছে দুষ্কৃতীরা। তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। রবিবার সভায় যোগ দেওয়ার আগে প্রদেশ ক‌ংগ্রেস সভাপতি সেই প্রার্থীর সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যান। রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী তথা আসানসোলের তৃণমূল বিধায়ক মলয় ঘটককে কটাক্ষ করে সভায় অধীর বলেন, ‘‘লোকসভা ভোটে শোচনীয় হারের পরে আসানসোলের পুরভোট ওঁর কাছে মরণ-বাঁচন লড়াই। তাই সন্ত্রাস করে হলেও এই ভোটে জিততে চাইবে ওরা।’’

মলয়বাবুর সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। তৃণমূলের আসানসোল জেলা সভাপতি ভি শিবদাসনের প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমাদের এমন অবস্থা হয়নি যে অন্য দলের সঙ্গে আঁতাত করে ভোটে লড়তে হবে। কংগ্রেস যে সত্যিই সাইনবোর্ড হয়ে গিয়েছে, তা আর একবার প্রমাণ করে গেলেন অধীরবাবু।’’ বিজেপি-র আসানসোল জেলা সাধারণ সম্পাদক তাপস রায়ের বক্তব্য, ‘‘এই ধরনের মনগড়া কথার কোনও প্রতিক্রিয়া হয় না। লোকসভা ভোটে আমাদের সাংগঠনিক শক্তি কংগ্রেস দেখেছে। পুরভোটেও যে এক ফল হবে, সেটা ওরা বুঝেছে। তাই মুখ বাঁচাতে গল্প ফেঁদে রণে ভঙ্গ দিচ্ছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy