বিডিও-র সই এবং স্ট্যাম্প জাল করে ট্রেড লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের ঘটনা। ধৃতের নাম আসমত শেখ। তার বাড়ি রামনগরের পূবার গ্রামে।
প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করতে হয় ব্লক দফতর থেকে। লাইসেন্সে বিডিও সই করার পর তা তুলে দেওয়া হয় আবেদনকারীদের কাছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আসমত দু’জন স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করিয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেয়। কিন্তু বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও লাইসেন্স না মেলায় ওই দুই ব্যবসায়ী আসমতকে চেপে ধরে।
প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও ব্যক্তি লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করতে এলে ব্লক দফতর থেকে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে একটি রিসিভ কপি দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ রকম কোনও রিসিভ কপিও ওই দুই ব্যবসায়ীকে দেখাতে পারেননি আসমত। এর পরেই ওই দুই ব্যবসায়ীর সন্দেহ হওয়ায় দিন কয়েক আগে আসমত দু’জনকে সঙ্গে করে আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লক দফতরে আসেন। এরপর ট্রেড লাইসেন্স দু’টিও ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতরে লাইসেন্স দু’টি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক জন কর্মী লক্ষ করেন, ব্লক দফতরের স্ট্যাম্পটি আসল নয়। বিডিও দীপ্তিময় দাসের সইটিও জাল করা হয়েছে বলে তাঁদের তখন সন্দেহ হয়।
গেটা বিষয়টি নজরে আনা হয় বিডিও দীপ্তিময়বাবুর। তিনি জানান, ওই লাইসেন্স দু’টিতে থাকা সই তাঁর নয়। এরপরই আসমত শেখকে আটকে রাখা হয় দফতরে। পরে ওই ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীপ্তিময় দাস জানান, আরও বড় কোনও জালিয়াতি রুখতেই আসমতের নামে অভিযোগ করেছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, এর আগেও আসমতের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে জাল রেশন কার্ড তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, কাজ দেওয়ার নাম করেও বিভিন্ন মানুষের কাছে টাকা তুলত আসমত।
ধৃতকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।