Advertisement
E-Paper

বানচাল প্রকল্পের কাজ কি মিটবে বিকল্পে

স্থায়ী সমাধানের উপায় হাতের মুঠোয় এসেও ফস্কে গিয়েছে। তাই প্রতি গ্রীষ্মে জলকষ্ট কুলটির চেনা ছবি। সময়ে রূপায়ণ করতে না পারায় কেন্দ্রের ১৩৩ কোটি টাকার জলপ্রকল্প ফেরত চলে যাওয়ায় তার পরিবর্তে গোটা ছয়েক ছোট প্রকল্পের অনুমোদন করেছে রাজ্য।

নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল

শেষ আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ০০:৫৭
কুলটির এই ছোট প্রকল্প ঘিরেই তৈরি হয়েছে সংশয়।–শৈলেন সরকার।

কুলটির এই ছোট প্রকল্প ঘিরেই তৈরি হয়েছে সংশয়।–শৈলেন সরকার।

স্থায়ী সমাধানের উপায় হাতের মুঠোয় এসেও ফস্কে গিয়েছে। তাই প্রতি গ্রীষ্মে জলকষ্ট কুলটির চেনা ছবি। সময়ে রূপায়ণ করতে না পারায় কেন্দ্রের ১৩৩ কোটি টাকার জলপ্রকল্প ফেরত চলে যাওয়ায় তার পরিবর্তে গোটা ছয়েক ছোট প্রকল্পের অনুমোদন করেছে রাজ্য। বাসিন্দাদের দাবি, তাতে হয়তো দুধের সাধ ঘোলে মিটবে। কিন্তু এলাকার সামগ্রিক জল সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হবে কি না, সে নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একই সংশয়ের কথা জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর ও পুরনিগমের আধিকারিকদের একাংশও।

কুলটিতে জল সরবরাহের মূল দায়িত্বে রয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। সেই দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের যশাইডি, জুনুট, সালুনি, বড়িরা, লালবাজার, বরাকরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল, নিয়ামতপুর, কেন্দুয়া বাজার, দক্ষিণ রানিতলা এলাকায় পাইপলাইন পাতা আছে। কিন্তু পর্যাপ্ত জল সরবরাহ হয় না। দফতরের কর্তারা জানান, জানুয়ারির গোড়া থেকেই তাঁরা প্রমাদ গোনেন। সেই সময় থেকেই ওই সব এলাকায় জলের জন্য হাহাকার শুরু হয়ে যায়। রাজ্য সরকারের সহায়তায় ২০০৬ সালের মাঝামাঝি জেএনএনইউআরএম প্রকল্পের আওতায় ১৩৩ কোটি টাকার ওই প্রকল্পটির অনুমোদন মেলে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১১ সালে।

কিন্তু গোল বাধে প্রকল্পের কাজ করবে সে নিয়ে। এডিডিএ এবং তৎকালীন কুলটি পুরসভার সেই বিবাদ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। তবে কোনও নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূলের সরকার। এর পরেই এডিডিএ-র সঙ্গে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার বিবাদ মিটে যায়। প্রকল্প রূপায়ণে ২৭ কোটি টাকার পাইপও কেনা হয়। কিন্তু সময়ে কাজ শেষ না করতে পারায় প্রকল্পই বাতিল হয়ে যায়। চিনাকুড়ি এলাকায় রাস্তার পাশে অযত্নে পড়ে রয়েছে ওই সব পাইপ।

এত বড় একটি প্রকল্পের টাকা এসেও ফিরে যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তৎকালীন কুলটি পুর-কর্তৃপক্ষ। মান বাঁচাতে তড়িঘড়ি একাধিক ছোট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সে জন্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। কুলটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বসানো হচ্ছে প্রায় সাড়ে চারশো গভীর নলকূপ। ৫২টি জায়গায় গভীর নলকূপ খনন করে পাম্পের সাহায্যে জল তুলে সরবরাহের ব্যবস্থা হচ্ছে। চিনাকুড়ি, বেজডিহি, মানিকেশ্বর, শীতলপুর এলাকায় সাবমার্সিবল পাম্পের সাহায্যে দামোদরের জল তুলে আশপাশের এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঠানোর বন্দোবস্ত হচ্ছে। বরাকর ও রামনগরের বর্তমান প্রকল্প দু’টিরও উন্নতির পরিকল্পনা হয়েছে। মহকুমাশাসক (আসানসোল) অমিতাভ দাস বলেন, ‘‘প্রকল্পগুলি দ্রুত রূপায়ণের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।’’

যদিও পুর প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, প্রকল্পগুলি গৃহীত হলেও কাজ এখনও পুরোদমে শুরু হয়নি। তাই সেগুলি কবে শেষ হবে সে নিয়ে সংশয়ে নাগরিকেরা। প্রকল্পগুলি রূপায়ণ হলেও তা এলাকার সামগ্রিক জল সমস্যা সমাধান করতে পারবে না বলে মনে করেন পুরনিগম ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের একাংশ। তাঁদের মতে, ১৩৩ কোটি টাকার প্রকল্পটিতে বিস্তীর্ণ এলাকায় ১১টি উচ্চ জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। শহরে আরও দেড়শো কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পাইপ পাতার কথা ছিল। দামোদরের চার জায়গায় পাম্প হাউস গড়ে জল তুলে ওই সব উচ্চ জলাধারে সংরক্ষণের পরে তা পাইপের মাধ্যমে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। আধিকারিকদের দাবি, এই বড়সড় প্রকল্পের ছিটেফোঁটাও পূরণ হবে না ছোট প্রকল্পগুলিতে। এই পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের দাবি, শহরের জন্য ফের বড় জলপ্রকল্প অনুমোদন করে আনার ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে পুরনিগমকে।

সম্প্রতি ছোট প্রকল্পগুলি সরেজমিনে দেখতে কুলটি এসেছিলেন পুরনিগমের জল দফতরের মেয়র পারিষদ পূর্ণশশী রায়। তাঁর আশ্বাস, ‘‘আপাতত এই প্রকল্পগুলির সাহায্যেই জলের প্রাথমিক সমস্যা মেটানো হবে। স্থায়ী সমাধানের জন্য ভবিষ্যতে বড় প্রকল্পের ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট হব।’’ মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, ‘‘আমরা অবৈধ জলের সংযোগ ছিন্ন করতেও শুরু করেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত পাঁচটি ওয়ার্ডে জলের সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে পারব বলে মনে করছি।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy