Advertisement
E-Paper

বারবার দুর্ঘটনা, তবু সারাই হয় না সড়ক

সংস্কারের অভাবে খন্দে ভরেছে রাস্তা। নির্দিষ্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাও নেই। এর জেরে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে কালনার উপর দিয়ে যাওয়া এসিটিকেকে রোডের বিভিন্ন অংশে। পথচারী থেকে এলাকার বাসিন্দা সকলেরই অভিযোগ, রাস্তার হাল ফেরানোর জন্য বারবার প্রশাসনে দরবার করেও লাভ হয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্বস্থলী

শেষ আপডেট: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:০৯
বৃষ্টি হলেই এমন হাল এসটিকেকে রোডের। নান্দাইয়ে তোলা নিজস্ব চিত্র।

বৃষ্টি হলেই এমন হাল এসটিকেকে রোডের। নান্দাইয়ে তোলা নিজস্ব চিত্র।

সংস্কারের অভাবে খন্দে ভরেছে রাস্তা। নির্দিষ্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাও নেই। এর জেরে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে কালনার উপর দিয়ে যাওয়া এসিটিকেকে রোডের বিভিন্ন অংশে। পথচারী থেকে এলাকার বাসিন্দা সকলেরই অভিযোগ, রাস্তার হাল ফেরানোর জন্য বারবার প্রশাসনে দরবার করেও লাভ হয়নি।

হুগলির সপ্তগ্রাম থেকে বর্ধমানের কাটোয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এসটিকেকে রোড। এক দিকে কলকাতা, অন্য দিকে উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য এই রাস্তাটিই ব্যবহার করেন কালনা, কাটোয়া, পূর্বস্থলীর বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা। দিনভর রাস্তা দিয়ে যাত্রী ও মালবোঝাই ভারী গাড়ি চলাচল করে। এমন গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার বিভিন্ন জায়গা সংস্কারের অভাবে বেহাল। জিউধারা, সাহাপুর-বেলতলা, গোয়াড়া, ধাত্রীগ্রাম, নান্দাই, সমুদ্রগড়-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে পাথর দেখা যাচ্ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাঝেসাঝে রাস্তায় জোড়াতালি দেওয়া হলেও দিন কয়েকের মধ্যেই তা ফের আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

রাস্তা বেহাল হওয়ায় মাঝেসাঝেই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত শুক্রবার রাতে পথ দুর্ঘটনায় মারা যান বাবুল কর্মকার ও কানাই শাঁখারি নামে দুই যুবক। জখম হন সুপ্রিয় ঘোষ নামে আরও এক যুবক। সকলেরই বাড়ি, কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ স্টেশন বাজার এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন রাত ৮টা নাগাদ তিন যুবক মোটরবাইকে করে এসটিটিকেকে রোড ধরে নবদ্বীপ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। ছাতনি ন’মাথার মোড়ের কাছে একটি বালি বোঝাই দশ চাকার লরি তাঁদের ধাক্কা মারে।

শুধু এই ঘটনায় নয়, সম্প্রতি সমুদ্রগড় ঢোকার মুখে পরেশ সরকার নামে এক ব্যবসায়ীও দুর্ঘটনাগ্রস্ত হন। হাঁটুর হাড় ভাঙে তাঁর। পরেশবাবুর কথায়, ‘‘বেহাল রাস্তার কারণে মোটরবাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি।’’ বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা, অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তায় জল জমে গিয়ে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে রাস্তাটি। জিউধারা থেকে ধাত্রীগ্রাম পর্য়ন্ত রাস্তায় আবার হারিয়ে গিয়েছে ফুটপাথ। রাস্তার দু’পাশে অনেকেই নির্মাণ সামগ্রী জমা করে রাখেন। এক পথচারীর কথায়, ‘‘ফুটপাথ না থাকায়, প্রতি মুহূর্তে বিপদের শঙ্কা নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।’’ কিন্তু প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উপরন্তু যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশির ভাগ জায়গায় কোনও ট্রাফিক ব্যবস্থাও চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। কালনার বিভিন্ন এলাকায় এসটিকেকে রোড যে বেহাল, তা স্বীকার করে নিয়েছে মহকুমা প্রশাসন। কালনার মহকুমাশাসক সব্যসাচী ঘোষ যদিও বলেন, ‘‘হুগলিতে এসটিটিকেকে রোডের উপর সংস্কারের কাজ চলছে। এর পরই কালনা মহকুমায় কাজ শুরু হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy