Advertisement
E-Paper

ভোটের আগে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে সতর্কবার্তা তৃণমূলের বৈঠকে

আগে কেউ সাইকেলে ঘুরতেন। এখন চড়েন মোটরবাইকে। আগে ছিল ছোট একতলা বাড়ি। এখন ঝকঝকে দোতলা গড়েছেন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরে রাজনৈতিক নেতাদের এমন ‘ফুলে-ফেঁপে’ ওঠা সাধারণ মানুষ খেয়াল রাখেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:২০

আগে কেউ সাইকেলে ঘুরতেন। এখন চড়েন মোটরবাইকে। আগে ছিল ছোট একতলা বাড়ি। এখন ঝকঝকে দোতলা গড়েছেন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরে রাজনৈতিক নেতাদের এমন ‘ফুলে-ফেঁপে’ ওঠা সাধারণ মানুষ খেয়াল রাখেন। বিধানসভা ভোটের আগে এ ব্যাপারে দলের নেতাদের সতর্ক থাকতে হবে, কালনার সিঙ্গেরকোনে বৈঠক করে বার্তা দিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সতর্ক করা হল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করছে বা সাংসদ, বিধায়কেরা নিজেদের তহবিলের টাকা কোথায় কতটা কী ভাবে খরচ করছেন, তা দলের নেতা-কর্মীরা ঠিক মতো জানতে পারছেন না। তাই তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছিল। ৩ অক্টোবর জেলার বেশ কিছু আসনে উপ-নির্বাচন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রামীণ এলাকার ঘর গুছিয়ে নিতে এ দিনের বৈঠক ডাকা। আহ্বায়ক ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু। তৃণমূল সুত্রে জানা গিয়েছে, দেবুবাবুই সম্প্রতি দলের জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথকে দলের জনপ্রতিনিধি এবং নেতাদের নিয়ে বৈঠকের প্রস্তাব দেন। স্বপনবাবু সম্মত হন। দেবুবাবুর নিজের এলাকা সিঙ্গেরকোনে এ দিন বৈঠকের আয়োজন হয়। তিনি ও স্বপনবাবু ছাড়াও ছিলেন দুই সাংসদ সুনীল মণ্ডল ও মমতাজ সঙ্ঘমিত্রা, জেলার ন’জন বিধায়ক, জেলা পরিষদের সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরা। দলের নেতাদের মধ্যে ছিলেন ব্লক সভাপতি ও ছাত্রনেতারা।

তৃণমূল সূত্রের খবর, বৈঠকে এক জেলা পরিষদ সদস্য দলের কিছু লোকজনের ফুলে-ফেঁপে ওঠার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ আমাদের লক্ষ্য রাখছেন। মনে রাখবেন, মানুষের কাছেই আমাদের ভোট চাইতে যেতে হবে।’’ আলোচনায় উঠে আসে, জন প্রতিনিধিরা অনেকেই তাঁদের তহবিলের টাকা খরচ করতে পারছেন না। কয়েক জন বিধায়কের বরাদ্দ অর্থের কিছু কিছু ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট (ইউসি) জমা পড়েনি। এক বিধায়ক দাবি করেন, ‘‘ঠিকঠাক লোকেদের দিয়ে কাজ হচ্ছে না বলেই ইউসি জমা পড়ছে না।’’ বৈঠকে জানানো হয়, পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদে উন্নয়নমূলক কাজ কমিটি গড়ে করা হবে। এই সব কমিটিতে কারা থাকবেন তা নিয়েও আলোচনা হয়।

দল সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছেন, সামনে বেশ কিছু আসনে উপ-নির্বাচন রয়েছে। কোথাও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রমাণ মিললে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নেতারা অনেকেই মেনে নেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব থাকায় সরকারের বহু উন্নয়নমূলক কাজ সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে না। এক বিধায়ক আক্ষেপ করেন, ‘‘সরকারি প্রকল্প নিচুতলার মানুষ জানতে পারছেন না।’’

এ দিনের বৈঠকে হাজির ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য শান্তি চাল। কালনার একটি জেলা পরিষদ আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে জেতার পরেও মাস কয়েক আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। সম্প্রতি আবার তিনি তৃণমূলে ফেরার জন্য জেলা সভাপতি স্বপনবাবুর কাছে চিঠি দেন। তৃণমূল সুত্রে খবর, শান্তিবাবুর দলে ফেরা কার্যত নিশ্চিত হওয়ার পরে তাঁকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এ দিনের বৈঠক উপলক্ষে নেতাদের খাওয়া-দাওয়ারও এলাহি আয়োজন হয়েছিল। সকালে ছিল নান-পুরি, পনিরের তরকারি এবং রসগোল্লা। দুপুরে ভাত, ভেটকির চপ, ইলিশ ভাপা, কাতলার কালিয়া, মুরগির মাংস, ফুলকপির তরকারি, দই, চাটনি, পাঁপড় সহযোগে মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা হয়েছিল। বৈঠক শেষে জেলা সভাধিপতি দেবুবাবু জানান, উন্নয়নের গতি তরান্বিত করতেই এ দিনের বৈঠকের আয়োজন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy