Advertisement
E-Paper

লাভের খোঁজ দিচ্ছে বিকল্প চাষ

অতি ফলনের জেরে অনেক সময়েই দাম মেলে না আলু, ধানের মতো বিভিন্ন গতানুগতিক ফসলের। কোনও বছর আবার নাবি ধসা-সহ আলুর বিভিন্ন রোগ দেখা দেওয়ায় জেরবার হতে হয় চাষিদের। এই দুইয়ের গেরোয় পড়ে শুরু হয় পথ খোঁজা। শেষমেশ বছর তিনেক আগে বিকল্প চাষ শুরু করেন কালনার বেগপুর পঞ্চায়েত এলাকার চাষিরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:০৬
কালনার বেগপুরে চলছে কলা চাষ। নিজস্ব চিত্র।

কালনার বেগপুরে চলছে কলা চাষ। নিজস্ব চিত্র।

অতি ফলনের জেরে অনেক সময়েই দাম মেলে না আলু, ধানের মতো বিভিন্ন গতানুগতিক ফসলের। কোনও বছর আবার নাবি ধসা-সহ আলুর বিভিন্ন রোগ দেখা দেওয়ায় জেরবার হতে হয় চাষিদের। এই দুইয়ের গেরোয় পড়ে শুরু হয় পথ খোঁজা। শেষমেশ বছর তিনেক আগে বিকল্প চাষ শুরু করেন কালনার বেগপুর পঞ্চায়েত এলাকার চাষিরা। চাষিদের বক্তব্য, বিকল্প চাষ করে অনেকেই এখন লাভের মুখ দেখছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর তিনেক আগে কেন্দ্রীয় সরকারের এনআরইজিএ-এর অধীনে ইনডিভিজুয়াল বেনিফিসারি স্কিমের (আইবিএস) আওতায় এলাকার কয়েকজন চাষিকে নিয়ে শুরু হয় কলা চাষের। গোটা বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয় স্থানীয় পঞ্চায়েতও। জমি তৈরি, টিস্যু কালচার, সার-সহ চাষের যাবতীয় খরচ মেলে প্রকল্প থেকেই। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাষ শুরুর এক বছরের মধ্যে ফল মিলেছে হাতেনাতে। বেরাকুরা, রাজখাঁড়া, কপ্পুরডাঙা, ঘনশ্যামপুর-সহ বিভিন্ন গ্রামে গেলেই এখন দেখা মিলবে খেত ভর্তি কলা গাছের। পঞ্চায়েতের হিসেব অনুসারে এলাকার একশো বিঘারও বেশি জমিতে বর্তমানে কলা চাষ করা হচ্ছে।

কেন কলা চাষ লাভজনক? চাষিরা জানান, এক বিঘা জমিতে সাধারণত চারশোটি কলাগাছ পোতা হয়। এক বছর পর থেকেই শুরু হয় ফলন। তারপর একই গাছ থেকে সাত মাসের ব্যবধানে আরও দু’বার ফলন হয়। এর জেরে চাষের খরচ বেশ খানিকটা কমে যায় বলে জানান চাষিরা। অথচ সব মিলিয়ে প্রায় লাখ টাকারও বেশি কলা বিক্রি করা সম্ভব। এনআরইজিএ-র অধীনে চাষ করা হলে কোনও খরচই হয় না বলে জানান চাষিরা। ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাষ হলে খরচ হয় ৫৫ থেকে ৫৮ হাজার টাকা। ধান বা আলু চাষের ক্ষেত্রে প্রতি বছর নির্দিষ্ট লাভ পাওয়া যায় না বলে অনেকেই এই বিকল্প চাষের দিকে ঝুঁকেছেন বলে জানান। পঞ্চায়েত প্রধান শিউলি মল্লিকের দাবি, গত পাঁচ বছরে বিঘা প্রতি ধান, আলু চাষ করে চাষিরা যা লাভ করেছিলেন, এক বছর কলা চাষ করে তার তুলনায় অনেক বেশি লাভবান হয়েছেন।

Advertisement

চাষিদের দাবি, ঝড়, বৃষ্টি, বন্যা-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে গতানুগতিক চাষে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু কলা চাষে তেমন আশঙ্কা নেই বলে জানান বেরাকুরা গ্রামের কলাচাষি মিন্টু মণ্ডল, অভিজিৎ পালেরা। মিন্টুবাবুদের কথায়, ‘‘কলা চাষে ঝক্কি কম। তা ছাড়া নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভেরও সম্ভাবনা থাকে।’’ বিকল্প চাষ এলাকায় যে ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে, তা মালুম হল রাজখাঁড়া গ্রামের চাষি ইউনাস শেখের বক্তব্যে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পে ১০ কাঠা জমিতে কলা চাষ করেছিলেন। ভাল লাভ মেলায় এ বার নিজের খরচে আরও ১০ কাঠা জমিতে কলা চাষ করেছেন।

বিকল্প চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকায়, পরের মরশুম থেকে পেয়ারা, বায়ো কুল প্রভৃতির চাষেও উৎসাহ দেওয়া হবে বলে পঞ্চায়েত সূত্রে খবর। পঞ্চায়েত প্রধানের দাবি, বিপিএল তালিকাভুক্ত স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে কিছু খাস জমি বিলি করার চেষ্টা হচ্ছে, যাতে সেখানেও বিকল্প চাষ করা সম্ভব হয়।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy