Advertisement
E-Paper

শিক্ষকদের বহিষ্কার করায় আসন অর্ধেক

দুর্ব্যবহার-সহ নানা অভিযোগে আন্দোলন করায় গত বছর বেশ কয়েক জন শিক্ষককে বরখাস্ত করেছিলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওই শিক্ষকেরা পশ্চিমবঙ্গ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারস্থ হওয়ায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত শেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দুর্গাপুরের দুই বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এ বার আসন সংখ্যা অর্ধেক করে দেওয়ার নির্দেশ দিল কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া কলেজের কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে নজরদারির কথাও জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০১৫ ০১:৩৭

দুর্ব্যবহার-সহ নানা অভিযোগে আন্দোলন করায় গত বছর বেশ কয়েক জন শিক্ষককে বরখাস্ত করেছিলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওই শিক্ষকেরা পশ্চিমবঙ্গ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারস্থ হওয়ায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত শেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দুর্গাপুরের দুই বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এ বার আসন সংখ্যা অর্ধেক করে দেওয়ার নির্দেশ দিল কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া কলেজের কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে নজরদারির কথাও জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

দুর্গাপুরের বিধাননগরের শহিদ সুকুমার ব্যানার্জি সরণিতে ২০০১ সালে গড়ে ওঠে ‘বেঙ্গল কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ (বিসিইটি) নামে ওই কলেজ। ২০০৯-এ শুধু ছাত্রীদের জন্য আর একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বিসিইটিডব্লিউ) গড়ে তোলেন কর্তৃপক্ষ। গত শিক্ষাবর্ষে ওই দুই কলেজে শিক্ষকদের একাংশকে স্টেশন থেকে পড়ুয়া ধরে আনার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। এর সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময়ে বেতন না দেওয়া, আগাম নোটিস ছাড়া চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা-সহ নানা অভিযোগে গত বছর অগস্টে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা না মেটায় শেষ পর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রায় ৯০ জন শিক্ষককে বরখাস্ত করেন।

অন্যায় ভাবে তাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে দাবি করে ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষকেরা। দুর্গাপুর শহরের বিভিন্ন জায়গায়, বর্ধমানে জেলাশাসকের দফতরে অবস্থান-বিক্ষোভ করেন তাঁরা। শেষে কলকাতায় কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি) সামনে অনশন শুরু করেন শিক্ষকেরা। ২০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’ গড়ার কথা ঘোষণা করা হলে অনশন প্রত্যাহার করেন তাঁরা। সেই কমিটির রিপোর্ট খতিয়ে দেখতে ২৭ মে ও ১৮ জুন এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক ডাকে বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে দুই কলেজের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে দুই কলেজে স্নাতক স্তরের আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের ওয়েবসাইটে দুই কলেজের পরিবর্তিত আসন সংখ্যা ইতিমধ্যে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। বিসিইটিতে ৯টি বিভাগে বি-টেক পড়ানো হয়। মোট আসন সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৬০। চলতি শিক্ষাবর্ষে তা নেমে হবে ৩২৪। বিসিইটিডব্লিউয়ে বি-টেক পড়ানো হয় ৫টি বিভাগে। আসন সংখ্যা প্রায় ৩৬০। এ বছর তা ১৬২ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন কলেজ দু’টি ঠিক ভাবে মানছে কি না, তা দেখতে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া এই ধরনের পরিস্থিতি যাতে অন্য কলেজে তৈরি না হয়, তা দেখার জন্য চার সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। সেই কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত সব কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য সর্বজনীন ‘সার্ভিস রুল’ গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ওই বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের এক আধিকারিক দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় নিয়মকানুন মেনে চলে তাঁদের দুই কলেজ। শিক্ষকেরা অনড় ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছিলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট করে দেওয়া সময়ে পঠনপাঠন শেষ করার জন্য রাতারাতি নতুন শিক্ষক নিয়োগ করতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। তা সত্ত্বেও এই শাস্তির সিদ্ধান্ত অনভিপ্রেত বলে ওই আধিকারিকের দাবি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy