Advertisement
E-Paper

স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে কাটোয়ায় চম্পট প্রৌঢ়ের

সন্দেহের বশে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। চিৎকার-চেঁচামেচিতে পড়শিরা ছুটে এলে খেত জমিতে ধারালো অস্ত্র ফেলে দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালান অভিযুক্ত প্রৌঢ়। পরে বাবার নামে মাকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন ছেলে। বৃহস্পতিবার সকালে কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ গ্রাম পঞ্চায়েতের মাখালতোড় গ্রামের ঘটনাটি ঘটে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৫ ০১:৫৫
ঘটনার পরে ভিড় মৃতের বাড়িতে। নিজস্ব চিত্র।

ঘটনার পরে ভিড় মৃতের বাড়িতে। নিজস্ব চিত্র।

সন্দেহের বশে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। চিৎকার-চেঁচামেচিতে পড়শিরা ছুটে এলে খেত জমিতে ধারালো অস্ত্র ফেলে দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালান অভিযুক্ত প্রৌঢ়। পরে বাবার নামে মাকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন ছেলে।
বৃহস্পতিবার সকালে কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ গ্রাম পঞ্চায়েতের মাখালতোড় গ্রামের ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির শৌচাগার থেকে রক্তমাখা অবস্থায় মৃত মমতা বিশ্বাসের (৪৩) দেহ মেলে। পরে দেহটি ময়না-তদন্তের জন্য কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেলা পুলিশ সুপার কুণাল অগ্রবাল বলেন, “অস্ত্রটি মিলেছে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকাল সাতটা নাগাদ মমতাদেবী শৌচাগারে যান। অভিযোগ, তাঁর পিছু নিয়ে শৌচাগারে ঢুকে স্ত্রীর মুখ চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করেন অভিযুক্ত ঠাকুরদাস। এলোপাথাড়ি ভাবে কোপানোর সময় মমতাদেবীর চিৎকার শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ওই দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে যান পুত্রবধূ ফুলনদেবী। হুঁশ ফিরলে শাশুড়িকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। ফুলনদেবীর দাবি, এগোতোই ঠাকুরদাসবাবু প্রথমে হুমকি দেন, তারপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসেন। ভয় পেয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে দেন তিনি। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে থাকা পড়শিরা ওই চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। তখনই অস্ত্রটি নিয়ে খেত জমি দিয়ে পালিয়ে যান ঠাকুরদাসবাবু। পরে পুলিশ অস্ত্রটি উদ্ধার করে। ইতিমধ্যে খবর পেয়ে বাড়িতে আসেন ছেলে পরিতোষ। স্ত্রীর কাছ থেকে সবটা শুনে পুলিশকে খবর দেন তিনি। কাটোয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাথরুম থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেহটি তুলে নিয়ে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, মমতাদেবীর মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ১৫টি জায়গায় কোপানোর চিহ্ন রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ফুলনদেবীর দাবি, “তখন সকাল সাতটা বাজে। স্বামী খেতে কাজে চলে গিয়েছেন। শ্বশুর বাড়ির বাইরে বসে ছিলেন। অন্য দিনের মতো শাশুড়ি বাথরুমে ঢুকে গেলে আমি ঘরের কাজ করছিলাম। হঠাৎ শাশুড়ির গলার আওয়াজ পেয়ে বাইরে আসি। দেখি, আমার শ্বশুরের হাতে রামদা, গোটা শরীর রক্তে ভিজে গিয়েছে। ওই অবস্থাতেও মাটিতে লুটিয়া থাকা শাশুড়ির দেহে পাগলের মতো রামদা দিয়ে কোপাচ্ছিলেন শ্বশুর। আমি কয়েক পা এগোতেই শ্বশুরমশাই আমায় বলেন, এগোলেই রামদা দিয়ে কোপাবেন।’’ এরপরেই ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করে দেন তিনি। পড়শিরা আসতেই ঠাকুরদাসবাবু পালিয়ে যান।

পুলিশের কাছে ফুলনদেবীরা জানান, বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে শাশুড়িকে বেশ কয়েক মাস ধরে সন্দেহ করছিলেন শ্বশুর। এ নিয়ে ওই প্রৌঢ় দম্পতির মধ্যে প্রায় দিনই অশান্তি হত। মাঝেমধ্যেই ঠাকুরদাসবাবু স্ত্রীকে মারধর করতেন বলেও জানান তাঁরা। ফুলনদেবী বলেন, “আমরা কোনও দিন শাশুড়ির কোনও অন্যায় দেখিনি। সবসসময় তাঁর হয়েই কথা বলতাম। সে নিয়ে আমাদের সঙ্গেও ঝামেলা বেধে যেত।’’ প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার এক দিদি খুব অসুস্থ। তাঁকে দেখতে প্রায় দিনই তিনি দিদির বাড়ি যেতেন। সেখান থেকেই ঠাকুরদাসবাবু সন্দেহ শুরু করেছিলেন।

Advertisement
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy