অভিনেতা, অভিনেত্রীদের সামনা-সামনি দেখবেন বলে সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন রাস্তায়। কিন্তু দুপুর গড়ালেও দেখা মিলল না সোহম, হিরণ, সায়ন্তিকার। শেষমেশ বাংলাদেশের এক অভিনেত্রীকে দেখতে পেয়েই যেন প্রাণ পেল আনমনা ভিড়। মঙ্গলবার পূর্বস্থলীর শ্রীরামপুরে শুরু হওয়া ১৬ তম আন্তর্জাতিক লোকসংস্কৃতি উৎসবের মেজাজটা ছিল এমনই।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিবারই এ রাজ্য তো বটেই ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, অসম, গুজরাট থেকে লোকনৃত্যের শিল্পীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আসেন নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশের শিল্পীরাও। ফলে তারকাখচিত মিছিল দেখতে সকাল থেকেই ভিড় জমে রাস্তায়। কিন্তু এ বার মাসখানেকের প্রচার, শহর জুড়ে পোস্টারের পরেও সায়ন্তিকা, সোহমকে দেখতে না পেয়ে মন ভরল না পূর্বস্থলীর।
শুরু থেকেই এ মেলার উদ্যোক্তা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তবে প্রথমে এত জৌলুস না থাকলেও রাজনীতিতে তাঁর চড়াইয়ের সঙ্গে মেলার জাঁকজমকও চড়তে থাকে। লোকসংস্কৃতি উৎসব এবং কৃষিমেলার আগে আন্তর্জাতিক শব্দটি যোগ হয়। জুড়ে যায় অন্যান্য দফতরও। তবে বরাবরই বর্ণাঢ্য মিছিলই মূল আকর্ষণ মেলার। মিছিলে যেমন নাটক, যাত্রা, কীর্তনের দল থাকে তেমনি দেশ, বিদেশের নানা শিল্পীর নাচও থাকে। বিদ্যানগর মোড় থেকে শুরু হয়ে চার কিলোমিটার দূরের হেমায়েতপুর মোড়ে শেষ হওয়া মিছিল দেখতে রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমে যায়। এ বার অবশ্য নির্দিষ্ট সময়ের ঘণ্টা দুয়েক পরে মিছিল শুরু হয়। দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষার পরেও তারকাদের দেখতে না পেয়ে ক্ষোভ ছড়ায় হাতে মোবাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ভিড়ে। কিছুক্ষণ পরে অবশ্য বাংলাদেশি অভিনেত্রী জোৎস্না জিনিয়াকে দেখা যায়। সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে নায়িকা হাত নাড়েন ভিড়ের দিকে। মাঝপথে নায়িকার পাশে উঠে বসেন মন্ত্রী স্বপনবাবুও। শেষমেশ টলিউডের তিন তারকা যখন পৌঁছন ততক্ষণে মিছিল শেষ। শুরু হয়ে গিয়েছে মেলা। সকাল থেকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কল্পনা বসাক, লক্ষ্মী বিশ্বাস, মিঠু দেবনাথেরা বলেন, ‘‘ভেবেছিলাম খুব কাছ থেকে অভিনেতাদের ছবি তুলব। সুযোগ হলে সেলফিও তুলব। কিছুই হল না।’’
উদ্যোক্তাদের দাবি, এ বার অনুষ্ঠানে থাকবে পঞ্জাবের ভাংড়া, ঝাড়খণ্ডের খসরন ছৌ ও পাইকা, গুজরাটের সিদ্ধি ধামাল, অসমের বিহু, রাজস্থানের ভাওয়াই, ওড়িশার গুটিপোয়া ইত্যাদি। সঙ্গে স্থানীয় ঢাক, রণ-পা, কাঠি নৃত্য, ঘোড়া নৃত্যও থাকবে। কিন্তু মিছিলে এত বাহার দেখা গেল না কেন? উদ্যোক্তাদের জবাব, শিল্পীরা এসে গেলেও প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় সব করা যায়নি। স্বপনবাবুর দাবি, ‘‘বাংলাদেশি অভিনেত্রী আসায় এ পার ও পার বাংলা এক হয়ে গিয়েছে।’’