এসআইআরের কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা শাসকদলের চেয়ারপার্সন। এ বার হুঁশিয়ারি এল বিরোধী দলের রাজ্য সভাপতির তরফে। বুথ স্তরে কর্মরত বিএলও-দের শুধু নয়, তাঁদের উপরের স্তরে থাকা ইআরও এবং এইআরও-দেরও (ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক) বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ফর্ম-৭ জমা নিতে যাঁরা অস্বীকার করছেন, সেই আধিকারিকদের শুধু চিহ্নিত করে রাখা হচ্ছে না, তাঁদের বাড়ির ঠিকানাও সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে বলে শমীক জানিয়েছেন।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিএলও-দের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। গত বছরের জুলাই মাসে এক প্রশাসনিক সভা থেকে তিনি বলেছিলেন, “বিএলও-দের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, ভোটার তালিকা থেকে যাতে কারও নাম বাদ না-যায় সেটা দেখার।” বিএলও-দের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ছিল, “ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর দায়িত্ব নেয় নির্বাচন কমিশন। তার আগে এবং পরে রাজ্য সরকারের হাতেই প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকে। আপনারা রাজ্য সরকারের চাকরি করেন। কোনও মানুষকে অযথা হেনস্থা করবেন না।” অনেকটা সেই সুরেই এ বার বিরোধী দলের রাজ্য সভাপতিও প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিলেন। ফলে এসআইআরের কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মীদের উপরে ‘রাজনৈতিক চাপ’ আরও বাড়ল।
আরও পড়ুন:
সপ্তাহখানেক ধরেই ফর্ম-৭ জমা সংক্রান্ত বিতর্কে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ফর্ম-৭ জমা দিয়ে বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে বিজেপি। বিজেপির পাল্টা দাবি, ফর্ম-৭ জমা পড়লে অবৈধ বা ভুয়ো ভোটারদের আর তালিকায় রাখতে পারবে না তৃণমূল। তাই অশান্তি করে ফর্ম-৭ জমা দেওয়া আটকাতে চাইছে। জেলায় জেলায় বিজেপি কর্মীরা বিডিও অফিসে ফর্ম-৭ জমা দিতে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হয়েছেন। কোথাও কোথাও তাঁদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। সে সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরেই শমীক পাল্টা হুঁশিয়ারি শুনিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
শমীক বলেছেন, ‘‘ফর্ম-৭ জমা দিতে গিয়ে আমাদের কর্মীদের মাথা ফাটছে। তাঁদের চোখের জলের হিসাব কেউ রাখছেন না। আমরা রাখছি। সব জায়গায় বিজেপি কর্মীরা জখম হচ্ছেন। আমরা গুনছি।’’ রাজ্য বিজেপি সভাপতির কথায়, ‘‘মানুষগুলোকে আমরা চিনে রাখছি। চোখের বদলে চোখ— এই জঙ্গলের নীতি তো আমাদের নয়। কিন্তু আমরা আমরা তাঁদের চিনছি।’’ এর পরেই এসআইআরের কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে প্রচ্ছন্ন হুমকির সুর শোনা যায় শমীকের গলায়। তিনি বলেন, ‘‘কিছু বিএলও-কেও আমরা চিহ্নিত করেছি। কিছু ডব্লিউবিসিএস আধিকারিককেও চিহ্নিত করেছি। তাঁদের কারও চাকরির মেয়াদ শেষ হতে এখনও ১৫ বছর বাকি, কারও ১৮ বছর। তাঁদের বাড়ির ঠিকানাও আমরা জানি। একটু অপেক্ষা করুন। ব্যবস্থা এঁদের বিরুদ্ধে হবে।’’ অর্থাৎ, চাকরির মেয়াদের পুরোটাই যে ওই আধিকারিকরা তৃণমূলের জমানাতেই কাটিয়ে দিতে পারবেন, তেমন ভাবা ভুল হচ্ছে বলে শমীক বার্তা দিতে চেয়েছেন। এবং বোঝাতে চেয়েছেন, তৃণমূল হারলে এই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।