Advertisement
E-Paper

ভোটের নামে এ আসলে প্রহসন, বলছে বিরোধীরা

তৃণমূলের দাবি, বিরোধীরা সব আসনে প্রার্থী দিতে পারেননি। সে জন্যই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততে পেরেছে তৃণমূল। কিন্তু বিরোধীরা অন্য কথা বলছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটের নামে এ আসলে প্রহসন হচ্ছে। সে জন্যই এ ভাবে জেতা সম্ভব।

অরুণাক্ষ ভট্টাচার্য ও সীমান্ত মৈত্র

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০১৮ ১৫:২৪
জয়ের-পর: আবির খেলায় মেতেছে তৃণমূল। নিজস্ব চিত্র

জয়ের-পর: আবির খেলায় মেতেছে তৃণমূল। নিজস্ব চিত্র

ভোটের আগেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বহু আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হল শাসকদলের প্রার্থীরা। তবে বেশ কিছু আসনে কাঁটা হয়ে রইলেন নির্দল প্রার্থীরা।

তৃণমূলের দাবি, বিরোধীরা সব আসনে প্রার্থী দিতে পারেননি। সে জন্যই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততে পেরেছে তৃণমূল। কিন্তু বিরোধীরা অন্য কথা বলছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটের নামে এ আসলে প্রহসন হচ্ছে। সে জন্যই এ ভাবে জেতা সম্ভব।

দলের জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অবশ্য বলেন, ‘‘আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো এখানে সাংগঠনিক ক্ষমতা ও মনের জোর বিরোধীদের নেই। সিপিএমের ৯৫ শতাংশ কর্মী এ বার বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন।’’

বিরোধীদের দাবি, সন্ত্রাস ও মারধর করে তৃণমূল ওই সব আসনে জয়ী হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। এমনকী জোর করে আটকে রেখে হুমকি দিয়ে অনেককে মনোনয়নপত্র তুলতে বাধ্য করা হয়েছে।

সিপিএমের জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এখানে ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। এ ভাবে নির্বাচন হয় না। এ অর্থহীন ভোট।’’ তাঁর দাবি, প্রশাসনের অসহযোগিতার জন্য তাঁদের অনেক প্রার্থী মনোনয়নপত্র তুলতে বিডিও অফিসে ঢুকতেই পারেননি। বাসে করে আসার সময় তাঁদের প্রার্থীদের বাস থেকে নামিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘মনোনয়নপত্র তুলে নেওয়ার জন্যেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। ফলে আমাদের মহিলা প্রার্থীরা ভয় পেয়েছেন। পুরুষ প্রার্থীদের বাড়ির লোকও ভয় পেয়েছেন। অনেকে মনের জোর ধরে রাখতে পারেননি। ফলে মনোনয়ন তুলতে বাধ্য হয়েছেন।’’

উত্তর ২৪ পরগনা

জেলা পরিষদ

• মোট আসন: ৫৭

• বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী: ৯

• ভোট হচ্ছে: ৪৮

পঞ্চায়েত সমিতি

• মোট আসন: ৫৮৯

• বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী: ১৬৪

• ভোট হচ্ছে: ৪২৫

গ্রাম পঞ্চায়েত

• মোট আসন: ৩৫৬০

• বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী: ৯৮৫

• ভোট হচ্ছে: ২৫৭৫

বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, গ্রামে গ্রামে সন্ত্রাস তৈরি করতে দুষ্কৃতীদের তৈরি করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘শাসকদলের বাহুবলীদের তাণ্ডবে আমাদের প্রার্থীরা অনেকে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। বাম আমলের থেকেও এখন ১০গুণ বেশি সন্ত্রাস চলছে।’’ পাশাপাশি তাঁর দাবি, যত সন্ত্রাসই চলুক, বিরোধীরা মাটি কামড়ে ধরে রয়েছে। জ্যোতিপ্রিয়বাবু অবশ্য সন্ত্রাসের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘কোথাও কোনও জুলুম হয়নি। কাউকে চড় থাপ্পড় পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’’ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি ১৫৫৮টি আসনে ও সিপিএম ১২৬৩টি আসনে লড়ছেন। তবে, তৃণমূলের মধ্যেই কাঁটা হয়ে রয়েছে দলের বিক্ষুব্ধরা। তাঁরাই এ বার দলীয় প্রতীক না পেয়ে নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। জেলা পরিষদে নির্দল প্রার্থী রয়েছেন, ১০জন। পঞ্চায়েত সমিতিতে ও গ্রাম পঞ্চায়েতে এ বার নির্দল প্রার্থী রয়েছেন, ১৬৫ জন ও ১০৫০ জন। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দল প্রার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগ বিক্ষুদ্ধ তৃণমূল কর্মী। যদিও জ্যোতিপ্রিয়বাবু দাবি করেছেন, ‘‘বেশির ভাগ অতিরিক্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন তুলে নিয়েছেন। সামান্য কয়েকজন রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে দল কোনও সম্পর্ক রাখবে না। দল ওঁদের কোনও দিন আর ফিরিয়েও নেবে না।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy