বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপিতে ভাঙন। শুক্রবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে এসে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের উপস্থিতিতে পদ্ম প্রতীক ছেড়ে জোড়া ফুলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন ময়নার বিজেপি নেতা চন্দন মণ্ডল। নিজের দলবদলের জন্য তিনি দায়ী করেছেন ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্ডাকে। পাশাপাশি, আদি বিজেপি নেতাদের ক্রমশ কোণঠাসা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ময়না এলাকার অর্থনীতি নির্ভর করে মাছ চাষের উপর। সেই মাছ চাষের উন্নয়নের জন্য বিজেপি বা স্থানীয় প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বিধায়ক অশোক কোনও পদক্ষেপ করতে পারেননি বলেই অভিযোগ করেছেন চন্দন। তাই উন্নয়নে শামিল হতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
ময়নার বেশ কিছু এলাকায় লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছিল গত ছ’ মাস ধরে। সেই বিষয়টি তিনি তৃণমূল নেতৃত্বকে জানানোয় প্রকল্পটি ফের চালু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেই মন্তব্য করেন চন্দন।
প্রসঙ্গত, একসময় ময়না এলাকায় বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন চন্দন। পরে যোগদান করেন বিজেপিতে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ময়না বিধানসভা থেকে বিজেপির প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন চন্দন। কিন্তু ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগদান করে প্রার্থী হয়ে যান ময়নার ভূমিপুত্র তথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার অশোক। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব সূত্রে খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রাক্তন ক্রিকেটারকেই ফের ময়নায় প্রার্থী করতে চলেছে দল। এ বারের নির্বাচনে আর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নেই জেনেই দলবদল করেছেন চন্দন। এমনটাই দাবি তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রলয় পালের।
বিজেপি নেতা প্রলয় বলেন, ‘‘ময়নায় তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার মতো লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর চন্দনের মতো মানুষকে অর্থ ও প্রার্থী হওয়ার লোভ দেখানো হয়েছিল তৃণমূলের পক্ষ থেকে। এই দুইয়ের লোভে তিনি দলবদল করেছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করে ভারতীয় জনতা পার্টি করতে হয়। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজের প্রাণ দিয়ে তা আমাদের শিখিয়ে গিয়েছেন। কে বা কারা প্রার্থী হওয়া আর অর্থের লোভে দলবদল করেছেন, তা নিয়ে বিজেপির কোনও মাথাব্যথা নেই। ময়নায় আবার বিজেপি প্রার্থী জয়ী হবে। যে কোনও নেতা তৃণমূলে যোগদান করলেও তা হবে।’’