E-Paper

মন্ত্রিসভার প্রশ্নে সময় নিচ্ছে বিজেপি, বাজেটেও

মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়েছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। সঙ্ঘ পরিবারের তরফেও তাদের মতামত দেওয়া হয়েছে সূত্রের খবর। তবে সব মত এখনও এক সূত্রে গাঁথা যায়নি।

সন্দীপন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ০৮:০৭
শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

ব্রিগেড ময়দানে মহা ধুমধামে নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ হয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে শপথ নিয়েছেন আরও পাঁচ মন্ত্রী। তবে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পরে ১০ দিন কেটে গেলেও বিজেপি সরকারের বাকি মন্ত্রিসভার চেহারা এখনও স্পষ্ট হচ্ছে না। শাসক শিবির সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গী ‘পঞ্চ পাণ্ডবে’র উপরেই আপাতত থাকছে রাজ্যের ভার! বিভিন্ন দফতর আর কার কার হাতে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

নতুন পাঁচ মন্ত্রীকেই একাধিক দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনু‌যায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে রয়েছে এই মুহূর্তে ৪৩টি দফতর! তার মধ্যে আছে অর্থ, শিল্প, শিক্ষা, শ্রম, কৃষি, ভূমি ও ভূমি সংস্কার-সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দফতর। দৈনন্দিন কাজে সহায়তার জন্য কয়েক জন বিধায়ককে কয়েকটি দফতরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তা অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ নতুন করে রাজ্যের বাজেট তৈরি করা। কিন্তু বিজেপি শিবিরে এখনও অর্থনীতির দক্ষ মাথার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন এখনই ডাকা হচ্ছে না।

মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়েছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। সঙ্ঘ পরিবারের তরফেও তাদের মতামত দেওয়া হয়েছে সূত্রের খবর। তবে সব মত এখনও এক সূত্রে গাঁথা যায়নি। নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে দু’দিনের জন্য দিল্লি গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য দলের সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের সঙ্গে তাঁর এক প্রস্ত আলোচনা হয়েছে নির্বাচন-উত্তর পরিস্থিতি নিয়ে। এর পরে আজ, শুক্রবারের মধ্যেই কলকাতায় আসার কথা বনসলের। তার পরে বিজেপির বিধায়ক-দলের বৈঠক ডাকা হতে পারে। প্রসঙ্গত, শপথ গ্রহণ-পর্বের মধ্যে বিধানসভায় শাসক দলের বিধায়কদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা পরে স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে রাজ্যে এসে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে তাঁর সফরের সূচিও চূড়ান্ত হয়নি।

সরকার ও শাসক দলের মধ্যে সমন্বয় রেখে চলা এক বিজেপি নেতার মতে, ‘‘মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের জন্য আরও কিছু দিন সময় লাগবে। বিধায়কদের কাজের মূল্যায়নও করতে চাইছে দল।’’

অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার পদে বিজেপি মনোনীত করেছে কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসুকে। সেই সিদ্ধান্তের পিছনে আরএসএসের ছাপ স্পষ্ট। মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও নানা মত উঠে আসছে শাসক শিবিরে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাঙালি অর্থনৈতিক উপদেষ্টাকে এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করার চেষ্টা সফল হয়নি বিজেপির মধ্যে থেকেই আপত্তির কারণে। বিজেপির সরকার তৈরি হয়ে যাওয়ার পরে এখন আবার তাঁর নাম নিয়ে চর্চা চলছে। তবে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর, যে দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন করতেই হবে, সেখানে ওই অর্থনীতিবিদই উপযুক্ত প্রার্থী কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আবার বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে থেকেও অর্থ দফতরের ভার নিতে বিশেষ উৎসাহী মুখ পাওয়া যায়নি।

এমতাবস্থায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘‘দল আর সরকার বা প্রশাসন গুলিয়ে দিলে চলবে না। সরকার তার কাজ শুরু করেছে। দল সেখানে হস্তক্ষেপ করবে না। পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজ্য সরকার তৈরি হয়েছে, সেটা বিজেপি নয়।’’ আর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিজেপি আর তৃণমূল কংগ্রেস এক নয়! ব্যক্তির ইচ্ছায় এখানে সিদ্ধান্ত হওয়ার অবকাশ নেই। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, দল ও সরকারের সমন্বয় রেখেই নীতি প্রণয়ন হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal government Budget

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy