পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) ট্রাইবুনালের কাজ নিয়ে বিরক্ত কলকাতা হাই কোর্ট। প্রতি দিন ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে তিন থেকে চারটি করে মামলা হচ্ছে। কী কারণে সাধারণ মানুষের এত অভিযোগ, রাজ্য সরকারকে তা দেখতে বলল উচ্চ আদালত। প্রয়োজনে ট্রাইবুনালের বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে।
এসআইআর প্রক্রিয়ার পর যাঁরা বিবেচনাধীন তালিকায় ছিলেন, তাঁদের নামগুলির নিষ্পত্তি চলছে ট্রাইবুনালে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের তত্ত্বাবধানে এই ট্রাইবুনালে বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা অনেকেই আবেদন করেছেন। কিন্তু প্রায় প্রতি দিনই ট্রাইবুনালের কাজের বিরুদ্ধে কোনও না কোনও মামলা হচ্ছে কলকাতা হাই কোর্টে। শুক্রবার এই সংক্রান্ত মামলা শুনানির জন্য ওঠে বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের বেঞ্চে। তিনি ট্রাইবুনালের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন, ভোটার তালিকায় নাম তোলা যে কোনও ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার। তাই এ ক্ষেত্রে সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
রাজ্যের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদারকে ট্রাইবুনাল সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য যা করণীয়, করতে বলেছে আদালত। রাজদীপের উদ্দেশে বিচারপতি পালের মন্তব্য, ‘‘এক বার চিন্তা করে দেখুন, ট্রাইবুনালে কী ভাবে কাজ চলছে! এটা একটা প্রশাসনিক কাজ। ভোটার তালিকায় নাম তোলা তো সাংবিধানিক অধিকার। দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি দেখুন।’’ ট্রাইবুনালে ভোটাধিকার নিষ্পত্তির জন্য সাধারণ মানুষকে সশরীরে হাজির হতে বলা হচ্ছে। তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে হাই কোর্ট। বিচারপতি বলেন, ‘‘প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসে কেউ কী ভাবে উপস্থিত হবেন? অনলাইনে হাজিরার ব্যবস্থা নেই।’’ ট্রাইবুনাল সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকারের কোনও বক্তব্য থাকলে তা আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করুক রাজ্য সরকার, চায় হাই কোর্ট।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয় গত অক্টোবর থেকে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের যাচাই ও সংশোধনের পর এই প্রক্রিয়ায় ৯০ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। মৃত, অনুপস্থিত, নিখোঁজ এবং স্থানান্তরিত ভোটার ছাড়াও অনেকের নাম বাদের খাতায় ছিল। বিবেচনাধীন ছিল ৬০ লক্ষাধিক নাম। ধাপে ধাপে সেই নামগুলির নিষ্পত্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। বিবেচনাধীন তালিকায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। সেই ট্রাইবুনালের কাজ এখনও চলছে। তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল আদালত।