রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির মামলা দাঁড় করাতে ‘চক্রান্ত’ করছে সিবিআই। বৃহস্পতিবার এমনই অভিযোগ করলেন তাঁর আইনজীবী সেলিম রহমান। পার্থ-সহ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত ৭ জনকে আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে তোলা হয়েছিল। আদালতে আরও এক বার পার্থের জামিনের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী। অন্য দিকে, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নতুন তথ্যপ্রমাণ দাখিল করে সিবিআই আদালতে দাবি করে যে, এজেন্টদের মাধ্যমে বহু অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ‘প্রমাণ’ মিলেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের জামিনের বিরোধিতাও করেন সিবিআইয়ের আইনজীবী। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযুক্ত ৭ জনকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষ আদালতের বিচারক।
পার্থের আইনজীবী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ, তদন্ত শুরু হলেও আদালত কোথাও রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রীকে গ্রেফতার করার কথা বলেনি। কিন্তু সিবিআই তা সত্ত্বেও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে ‘বিনা কারণে’ তাঁকে ১১২ দিন আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সিবিআই একই অভিযোগ তুলে মন্ত্রীর জামিন আটকানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তাঁর।
আরও পড়ুন:
পার্থের আইনজীবী বলেন, ‘‘এত দিনেও আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনও তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারেনি সিবিআই। শুধু বলা হচ্ছে উনি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে শামিল। কিন্তু সেটা ঠিক কী, তা এখনও প্রমাণ করতে পারলেন না তাঁরা (সিবিআইয়ের আইনজীবীরা)।” মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের জামিনের বিরোধিতা করে সিবিআইয়ের আইনজীবী আদালতে জানান, তিনি অতীতে সরকারি নথি ‘বিকৃত’ করেছেন। তাই তাঁকে এবং এই মামলায় অন্য অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। এই প্রসঙ্গে পার্থর আইনজীবী জানান, মামলায় সহ-অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নথি বিকৃতি করার অভিযোগ উঠলেও তার দায়ে পার্থকে আটকে রাখা যায় না।