পয়লা সেপ্টেম্বর রাজ্যে পালিত হবে পুলিশ দিবস। তার আগে পুলিশকর্মীদের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কনস্টেবল পদে আবেদন করার বয়ঃসীমা ২৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করা হয়েছে। এ ছাড়াও পুলিশকর্মীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও একাধিক সুযোগসুবিধার কথা ঘোষণা করেছেন মমতা।
বুধবার দুপুরে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যে কনস্টেবল পদে যোগ দেওয়ার সর্বোচ্চ বয়ঃসীমা ছিল ২৭ বছর। বুধবার তা বাড়িয়ে করা হল ৩০ বছর।
কর্মরত অবস্থায় পুলিশকর্মীর মৃত্যু হলে, পরিবারের এক জনকে চাকরি দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে শারীরিক গঠন দেখে সেই কাজে তাঁকে দেওয়া হবে। এ জন্য শারীরিক গঠনের মাপকাঠিতে ছাড় থাকবে।
সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, হোমগার্ড, এনভিএফ এবং সিভিল ডিফেন্স থেকে পদোন্নতি পেয়ে কনস্টেবল পদে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ৩৫ বছর করা হয়েছে। আগে তা ছিল, ২৭ বছর।
আরও পড়ুন:
চুক্তিভিত্তিক গাড়িচালকদের বেতন বৃদ্ধি হল। কলকাতা পুলিশের গাড়ি চালকরা পেতেন সাড়ে ১১ হাজার টাকা। এখন থেকে তা বেড়ে হবে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে বেতন ছিল সাড়ে ১৩ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে হল ১৫ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ওয়্যারলেস অপারেটর, মাউন্টেড পুলিশেরও পদোন্নতির একাধিক সংস্থান রাখা হয়েছে। পুলিশের উর্দির যে সামান্য টাকা বরাদ্দ হয়, তা নিয়ে আগেই বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন মমতা। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, উর্দির জন্য প্রতিটি পুলিশকর্মী আলাদা করে অনুদান পাবেন। এ বছর যে হেতু পুলিশের উর্দি আগেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই আগামী বছর থেকে সকলে অনুদানের টাকা পাবেন। এ বছর কেবল উর্দি রক্ষণাবেক্ষণের জন্যই আর্থিক অনুদান পাবেন পুলিশকর্মীরা।
কলকাতা পুলিশের এসিপি থেকে ডিসিপি পদমর্যাদার আধিকারিকরা বছরে ১৫ হাজার টাকা করে উর্দির জন্য পাবেন। ইনস্পেক্টর পাবেন ১০ হাজার টাকা, সাব ইন্সপেক্টর পাবেন সাড়ে সাত হাজার টাকা, এএসআই পাবেন ছ’হাজার টাকা, কনস্টেবল পাবেন পাঁচ হাজার টাকা। তবে এ বছর যে হেতু ‘ইউনিফর্ম কিট’ (পুলিশের উর্দি ও প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু) আগেই দেওয়া হয়ে গিয়েছে, তাই এ বার কেবল মাত্র রক্ষণাবেক্ষণের খরচ দেবে রাজ্য। আগামী বছর থেকে উর্দি কিনে দেবে না সরকার, তার বদলে সকল পুলিশকর্মী এই খাতে অনুদানের অর্থ পাবেন।