E-Paper

মন্ত্রিসভার তৎপরতা দিল্লিতে, ওবিসি নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী

এরই মধ্যে ওবিসি-সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা, বিমান ঘোষ, লক্ষ্মণ ঘোড়ুই-সহ কয়েক জনের সঙ্গে এ দিন নবান্নে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ০৮:৫২
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র।

বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরে ২১ দিন কেটে গেলেও রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়নি। এই আবহে আগামী বৃহস্পতিবার দিল্লি যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। এরই মধ্যে, নবান্নে সোমবার অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) সংক্রান্ত সংরক্ষণ নিয়ে দলের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রেক্ষিতে নতুন সরকারের সংরক্ষণ-নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন-সহ বিভিন্ন পক্ষ।

বিজেপি সূত্রে খবর, দিল্লিতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে। রাজ্য বিজেপির তরফে ইতিমধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতরে রাজ্যের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার জন্য ৪০ জনের নামের তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকা ‘যাচাই’য়ের জন্য গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। সব প্রক্রিয়া ঠিক মতো এগোলে আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হতে পারে।

এরই মধ্যে ওবিসি-সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা, বিমান ঘোষ, লক্ষ্মণ ঘোড়ুই-সহ কয়েক জনের সঙ্গে এ দিন নবান্নে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি সূত্রে অভিযোগ, অতীতে পিছনের দরজা দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষকে ওবিসি সংরক্ষণ পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে যোগ্য ওবিসিরা বঞ্চিত থেকেছেন। হাই কোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যেই পুরনো সংরক্ষণ বাতিল হয়েছে। পরে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে স্থগিতাদেশ পায় রাজ্য সরকার। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সেই মামলা তুলে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে খবর। এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এমন বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ। সূত্রের খবর, হিন্দু ধর্মের একাধিক বাদ পড়া ‘যোগ্য’দের ওবিসি তালিকা ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। সূত্রের দাবি, মুখ্যসচিবের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয় ইতিবাচক আশ্বাসও দিয়েছেন। অতি দ্রুত এই নিয়ে পুনর্বিবেচনার কাজ শুরু হবে।

তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে যত ওবিসি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি ফের যাচাইয়ের নির্দেশ ইতিমধ্যেই দিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। এই সূত্রেই লিবারেশনের রাজ্য সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার বলেছেন, “২০১১-র পরে দেওয়া সব ধরনের জাতিগত শংসাপত্র ফের যাচাইয়ের যে নির্দেশিকা, তা বাংলার সামাজিক ন্যায়বিচার ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উপরে এক গভীর আঘাত।” তাঁর সংযোজন, “সমীক্ষা ছাড়া বিপুল সংখ্যক অন্য অনগ্রসর শ্রেণির মানুষকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ এবং ১ কোটি ৬৯ লক্ষ জাতিগত শংসাপত্রকে সন্দেহের আওতায় আনার ফলে এসসি, এসটি ও ওবিসি ছাত্রছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে ভয়, অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক হয়রানির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।” লিবারেশনের অভিযোগ, আইনি ভাবে দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় হলেও, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার সঙ্গে জাতিগত শংসাপত্র ফের খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়াটি জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

OBC Suvendu Adhikari

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy