ইডির হেফাজতে থাকা কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের আত্মীয়, ঘনিষ্ঠ পুলিশ অফিসার এবং ব্যবসায়ীদের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাল ইডি। শুক্রবার সকাল থেকে বালিগঞ্জে শান্তনুর দিদির বাড়ি, কসবা থানা এলাকায় তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী রুহুল আমিন আলির ফ্ল্যাট, রয়েড স্ট্রিট ও রফি আহমেদ কিদোয়াই রোডে শান্তনু ঘনিষ্ঠদের দু’টি হোটেল এবং ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। মুর্শিদাবাদের কান্দি এলাকায় শান্তনুর বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। জালিয়াতির মাধ্যমে জমি ও সম্পত্তি দখল এবং ওই জমিতে অবৈধ নির্মাণের মামলায় অভিযুক্ত শান্তনু। ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতির কালো টাকা সরিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
কান্দিতে সাড়ে চার বিঘা জমির উপরে শান্তনুর প্রাসাদোপম বাড়ির ফটকের তালা ভেঙে স্থানীয় পুলিশকে ডেকে এ দিন ভোর থেকেই তল্লাশি শুরু করে ইডি। ওই বাড়িতে শান্তনুর এক বোন থাকেন। বাড়িটিতে নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত এক রাজমিস্ত্রি এবং কান্দি ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকদেরও ডেকে তদন্ত করছে ইডি। ইডি সূত্রে জানা যায়, বাড়ির জমির নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কিছু জরুরি নথি উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। সন্ধ্যার পরেও তদন্ত, তল্লাশি চলছে।
তদন্তকারীদের দাবি, শান্তনুর ভাগ্নের মাধ্যমে কালো টাকা নানা জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেই তাঁর দিদির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। শান্তনুর ভাগ্নে ও দিদিকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শেক্সপিয়র সরণি এবং হেয়ার স্ট্রিট থানার গুন্ডা দমন শাখার অফিসার রুহুল আমিনও শান্তনুর ছায়াসঙ্গী ছিলেন বলে ইডি সূত্রের দাবি। তদন্তকারীদের দাবি, রুহুল আমিন কলকাতা পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটির অন্যতম মাথা। শান্তনুর নির্দেশ অনুযায়ী, দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণের কাজের দেখাশোনা করতেন তিনি। সূত্রের দাবি, কলকাতার বিভিন্ন পানশালা ও রেস্তরাঁ থেকে জোর করে ‘প্রোটেকশন মানি’ও তিনি আদায় করতেন। এ দিন সকাল থেকে ফ্ল্যাটে তল্লাশির পাশাপাশি রুহুল এবং তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শান্তনুর ঘনিষ্ঠ কয়েক জন ব্যবসায়ীর মাধ্যমেও কালো টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে ইডির দাবি।
ইডির দাবি, অবৈধ নির্মাণে শান্তনু সিংহ বিশ্বাস, সোনা পাপ্পু ও নির্মাণ ব্যবসায়ী জয় কামদার মূল অভিযুক্ত। শুক্রবার জয়কে বিচার ভবনের সিবিআই বিশেষ আদালতে পেশ করা হয়েছিল। বিচারক তাঁকে ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে আদালত সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, প্রধানত অসহায় প্রবীণ নাগরিকদের সম্পত্তি লুট করে তাঁদের সম্পত্তি ভেঙে নির্মাণকাজ করা হত। শাসানি দিয়ে জমি ও বাড়ি জলের দরে কিনে নেওয়া হত বলেও সূত্রের খবর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)