E-Paper

রানওয়েতে মসজিদ, ফের বিকল্প খুঁজতে তোড়জোড়

প্রায় ১৩৬ বছর ধরে মসজিদটি (‘গৌরীপুর জামে মসজিদ’, যা স্থানীয় ভাবে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত) সংশ্লিষ্ট জায়গাতেই রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ০৮:৪৮
দমদম বিমানবন্দর।

দমদম বিমানবন্দর। ফাইল চিত্র।

রাজ্যে সরকার বদলের পরে কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের মুখে থাকা মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হল। সূত্রের খবর, সরকার বদলের পরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামার রাজ্য সভাপতি তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজে আলোচনা করেছেন। সিদ্দিকুল্লা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি মধ্যস্থতা করবেন। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না-হওয়া পর্যন্ত ওই মসজিদে নমাজ বন্ধ যাতে না হয়, সেই কথাও পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

প্রায় ১৩৬ বছর ধরে মসজিদটি (‘গৌরীপুর জামে মসজিদ’, যা স্থানীয় ভাবে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত) সংশ্লিষ্ট জায়গাতেই রয়েছে। বিমানবন্দর সম্প্রসারণের সময়ে বিশরপাড়া মৌজার জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল মসজিদটিও। জনবসতি উল্টো দিকে চলে গেলেও মসজিদটি ওই জায়গাতেই থেকে যায়। মসজিদ স্থানান্তর করা নিয়ে অতীতে মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বহু বার আলাপ-আলোচনা হলেও, বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনও অগ্রগতি হয়নি। এখন ‘টোকেন’ নিয়ে সেখানে নমাজ পড়তে যান এলাকার বাসিন্দারা। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, রাজারহাটের দিক থেকে নেমে কোনও কারণে রানওয়েতে বিমান দাঁড় করাতে না-পারলে মসজিদের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। কোঝিকোঢ়ে ২০২০-র বিমান দুর্ঘটনার আবহেও বিষয়টি নিয়ে চর্চা হয়েছিল।

এখন মসজিদ স্থানান্তরের প্রস্তাব নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জমিয়তের প্রস্তাব, বিষয়টি নিয়ে দেওবন্দের দারুল উলুম, জমিয়তের সর্বভারতীয় কমিটি এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, এই তিন পক্ষকে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হোক। তবে তার আগে মসজিদে নমাজ পড়া যাতে বন্ধ না-হয়, সেই দাবিও তুলেছে জমিয়তে। এই আবহে সিদ্দিকুল্লা সোমবার বলেছেন, “আমরা কোনও অশান্তি চাই না। অতীতে বহু বার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা মসজিদের মালিক নই। তাই একক ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ওঁরা চিঠি দিন এবং আলোচনায় দারুল উলুম, জমিয়তে এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, তিন পক্ষই থাকুন। ওঁরা চাইলে প্রয়োজনে আমি মধ্যস্থতা করতে পারি। কিন্তু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেই এই নিয়ে প্রথম পদক্ষেপ করতে হবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

dumdum mosque

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy