Advertisement
E-Paper

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সঙ্কট, বিকল্প পথে রাজ্য, বৈদ্যুতিক যান বৃদ্ধিতে নতুন দিশা পরিবহণে

আগামী দিনে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। একদিকে যেমন পেট্রোল-ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে দূষণও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১২
car

—প্রতীকী ছবি।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতেও। পেট্রল, ডিজেল, কমপ্রেসিভ ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) ও এলপিজির যোগান ও দামের ওঠানামা দেশের পরিবহণ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানিনির্ভর পরিবহণের দিকে ঝুঁকছে বিভিন্ন রাজ্য। সেই তালিকায় উল্লেখযোগ্য ভাবে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের নাম, যেখানে ‘ইলেকট্রিক ভেহিকল’ (ইভি)-এর ব্যবহারে চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি ঘটেছে।

পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা আগামী দিনে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। একদিকে যেমন পেট্রল-ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে দূষণও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫২ হাজার ইলেকট্রিক যানবাহন নিবন্ধিত হয়েছিল। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে, ২০২৫-২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৩৩ লক্ষে। অর্থাৎ বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫৪.৭ শতাংশ। এই হার জাতীয় গড়কেও ছাপিয়ে গিয়েছে বলে দাবি পরিবহণ দফতরের একাংশের। যা রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে প্রধানত দু’টি কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ এবং প্রণোদনা। দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কম খরচে চলাচলের সুবিধার কারণে ইভির প্রতি আগ্রহ বাড়া। রাজ্যে ইভি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে ই-রিকশা বা টোটো। মোট ইলেকট্রিক যানবাহনের প্রায় ৬৭ শতাংশই এই টোটো। শহরাঞ্চল থেকে গ্রামাঞ্চল—সব জায়গাতেই এটি এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ মাধ্যম। সহজলভ্যতা, কম খরচ এবং কম দূষণের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই যান।

Advertisement

এ ছাড়াও, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বহু অ-নিবন্ধিত টোটোকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নথিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ইভির মোট সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যায়। শুধু টোটো নয়, অন্যান্য ইলেকট্রিক যানেও বৃদ্ধি লক্ষ করা গিয়েছে। ইলেকট্রিক দুই-চাকার গাড়ির সংখ্যা প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। একইসঙ্গে ইলেকট্রিক চারচাকা গাড়ির ক্ষেত্রেও প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। তিন-চাকার অন্যান্য ইভিও ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। তবে এখনও রাজ্যের অধিকাংশ যানবাহনই প্রচলিত জ্বালানিনির্ভর। পেট্রলচালিত গাড়ির হার প্রায় ৮২ শতাংশ। যদিও এই হার ধীরে ধীরে কমছে। ডিজেলচালিত গাড়ির সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম এবং হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে। এই সাফল্যের মাঝেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে—চার্জিং অবকাঠামোর অভাব। ইভির সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন এখনও গড়ে ওঠেনি। ফলে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা বা নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দ্রুত চার্জিং পরিকাঠামো উন্নত না করা যায়, তবে ভবিষ্যতে ইভির প্রসার বাধার মুখে পড়তে পারে। তাই এই খাতে আরও বিনিয়োগ ও পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।

পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘আগামী দিনে পরিবহণ ব্যবস্থায় আমাদের বিকল্প জ্বালানির বন্দোবস্ত করতে হবেই। কারণ পরিবেশ রক্ষায় বেশকিছু পদক্ষেপ সব রাজ্যের সরকারকে করতে হবেই। তাই গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইলেকট্রিক ভেহিকেল বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে। নতুন পরিসংখ্যান বলছে পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই সঠিক পথেই চলছে পরিবহণ দফতর। তা ছাড়া যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতেও বিদ্যুৎচালিত গাড়ির জন্য জ্বালানি নিয়ে সঙ্কটে পড়তে হবে না।’’ সব মিলিয়ে, জ্বালানি সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের ইভি বৃদ্ধির এই প্রবণতা পরিবহণ ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন নজর পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং এই গতিকে ধরে রাখার উপর।

Electric Vehicles West Bengal Transport Department
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy