কলা বিভাগে ৯৯.৫০ শতাংশ নম্বর পেয়ে আইএসসি (দ্বাদশ শ্রেণি) পরীক্ষায় তাক লাগালেন ব্যান্ডেলের বলাগড়ের কন্যা অদ্রিজা বসু।ব্যান্ডেল চার্চের কাছে একটি মিশনারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা শুরু তাঁর। সেখান থেকেই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় বসেছিলেন। স্কুলের মধ্যে তাঁর নম্বরই সর্বোচ্চ। সমাজবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে চান আঠেরো বছরে পা দেওয়া তরুণী।
অদ্রিজার সাফল্যে তাঁর স্কুলের পাশাপাশি খুশি পরিবারের লোকজন এবং প্রতিবেশীরা। বাবা শান্তনু বসু হাওড়ায় একটি স্টিল প্ল্যান্টে কর্মরত। মা বর্ণালি সরকার স্কুলশিক্ষিকা। অদ্রিজার ছোটবেলায় শান্তনু কর্মসূত্রে দেশের নানা প্রান্তে এবং বিদেশে থাকতেন। বাড়ি আসতেন কম। বর্ণালিও স্কুলে বেরিয়ে যেতেন। বাড়িতে ঠাকুমা ও ঠাকুরদার কাছেই থাকতেন অদ্রিজা। ঠাকুরদা মারা যাওয়ার পর থেকে ঠাকুমা শিপ্রাই নাতনির দেখভাল করতেন। দু'জনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। শিপ্রার কথায়, ‘‘নাতনিকে কোনও দিন পড়াশোনার কথা বলতে হয়নি। ও নিজেই পড়তে ভালবাসে।’’ বর্ণালি জানান, বৃহস্পতিবার অনলাইনে মার্কশিট দেখে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন অদ্রিজা।
দশম শ্রেণিতে ৯৩ শতাংশের উপরে নম্বর পেলেও সন্তুষ্ট ছিলেন না অদ্রিজা। দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ফল আরও ভাল করার জেদ চেপে বসে তখনই। আইএসসি-তে ইতিহাস এবং সমাজবিজ্ঞানে ১০০ করে নম্বর পেয়েছেন অদ্রিজার। ভূগোলে সংগ্রহ ৯৯, বাংলায় এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৯৮ করে। বাংলা গল্পের বই ও নাচ তাঁর পছন্দ। সত্যজিৎ রায়ের বই পড়ে এবং সিনেমা দেখে চিত্রনাট্য লেখার প্রতিও ভালবাসা জন্মেছে।
শিশুশ্রেণি থেকে অদ্রিজার গৃহশিক্ষিকা প্রতিবেশী সীমা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘শুরুতে সব বিষয়ে পড়ালেও বর্তমানে ওকে শুধু ইংরেজি পড়াতাম। একটানা এত বছর আজ অবধি কাউকে পড়াইনি। অদ্রিজা এত ভাল, বলে বোঝানো যাবে না। এ বার ওর কলেজ জীবন। উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যাবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)