খানাকুল ২ ব্লকের গ্রামীণ হাসপাতালে যেতে চারটি ফেরিঘাটে সাঁকো পেরোতে হয় স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর্মী বা রোগীদের থেকে মাসুল (টোল) নেওয়া যাবে না। কিন্তু তারপরেও যাতায়াতে তাঁদের থেকে মাসুল আদায় করা হচ্ছে বলে দিন কয়েক আগে বিডিওর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক রক্তিম চট্টোপাধ্যায়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন তিনি।
ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ‘‘ফেরিঘাটের সাঁকোগুলিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি রোগীদের টোটো থেকেও মাসুল নেওয়া হচ্ছে। হেঁটে গেলেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এই অব্যবস্থার জন্য বন্ধ্যাকরণ, প্রসবের মতো পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে গুরুত্ব সহকারে দেখার আবেদন করা হয়েছে।’’
বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া বলেন, “স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকে কোনও ‘টোল’ আদায় করা যাবে না জানিয়ে সব ক’টি ফেরিঘাট মালিককে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত বোর্ডও দেওয়া হবে। এর পরেও অভিযোগ এলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’’ তিনি জানান, রোগীদের এবং কৃষকের কৃষিপণ্য বহনেও কোনও ‘টোল’ নেওয়া যাবে না।
অভিযোগপত্রে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, মূলত হরিশচক আজগুবিতলা, হরিশচক সাজুরঘাট, গণেশপুর এবং নতিবপুরের বালিগোড়ির ফেরিঘাটে চিকিৎসক, নার্স-সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে অন্যায় ভাবে ‘টোল’ আদায় করা হচ্ছে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও দুর্ব্যবহার ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের। যাতায়াতে দেরিও হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ফেরিঘাট পারাপারের মাসুল নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব খানাকুল ২ ব্লক এলাকার ১১টি পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ। নদ-নদী ঘেরা এই ব্লকে দৈনন্দিন কাজে বাড়ি থেকে বের হলেই একাধিক ফেরিঘাট পারাপার করতে যথেচ্ছ মাসুল দিতে হয় বলে অভিযোগ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)