E-Paper

কবি হেমচন্দ্রের ভিটের স্মৃতি রক্ষা করার আর্জি

নগরোন্নয়ন আর আবাসনের চাপে গত এক দশকের বেশি সময় জুড়ে দ্রুত বদল ঘটছে হুগলির উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, চুঁচুড়ার মতো পুরনো শহরের।

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় 

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০০:৪০
ভাঙা হচ্ছে বাড়ি।

ভাঙা হচ্ছে বাড়ি। — নিজস্ব চিত্র।

শহরের ঘড়িবাড়ি ভেঙে কয়েক দশক আগেই আবাসন হয়েছে। ঘড়িবাড়ি মাঠও গিয়েছে প্রোমোটারের কবলে। তার অদূরেই উত্তরপাড়ার আর কে স্ট্রিট এবং বি কে স্ট্রিটের সংযোগস্থলে কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের বসতবাড়িতে এ বার প্রোমোটারের হাত পড়ল। কবির ভিটেতে তাঁর স্মৃতি ফলকটুকু অন্তত ধরে রাখতে এলাকার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা।

নগরোন্নয়ন আর আবাসনের চাপে গত এক দশকের বেশি সময় জুড়ে দ্রুত বদল ঘটছে হুগলির উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, চুঁচুড়ার মতো পুরনো শহরের। পুরনো নির্মাণ, স্মৃতি, ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে। প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো কবি হেমচন্দ্রের বসতবাড়িরও এমন পরিণতিতে আক্ষেপ করছেন অনেকেই।

কবির বংশধর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বাড়িতে থাকেন। সুদীপ জানান, তাঁর অংশ তিনি বিক্রি করেননি। তবে, বাড়ির বাকি অংশ ভাঙা পড়েছে। তাতে তাঁর অংশেরও ক্ষতি হয়েছে। তিনি প্রোমোটারকে সারিয়ে দিতে বলেছেন। সুদীপের কথায়, ‘‘হেমচন্দ্রের স্মৃতিটুকু থাক, আমিও চাই। উনি দাদুর কাকা ছিলেন। তবে, প্রোমোটারদের কাছে আমাদের আবেগ কি আদৌ কাজ করবে!’’

উত্তরপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা তুষারকান্তি চৌধুরী বলেন, ‘‘সুদীপের অংশে হেমচন্দ্রের নাম পাথরে খোদাই করা ফলক আছে। গেটও ভাঙা হয়নি। বাকি অংশ প্রোমোটার কিনে ভেঙে দিয়েছেন। সুদীপকে আমি অনুরোধ করছি, হেমচন্দ্রের স্মৃতিরক্ষায় কিছু পদক্ষেপ করতে। কবির ভিটেতে তাঁর স্মৃতি ফলকটুকু অন্তত ধরে রাখতে বিধায়কের কাছেও আবেদন জানিয়েছি।’’

তুষারকান্তি চান, প্রথমত, তৈরি হতে চলা আবাসনের নাম ‘হেমচন্দ্র ভবন’ রাখা হ‌োক। দ্বিতীয়ত, আবাসনে ঢোকার মুখ হেমচন্দ্রের বাড়ির গেটের আদলে বানানো হোক। পুরনো নাম-ফলক নষ্ট না করে আবাসনের গেটে বসানো হোক। তৃতীয়ত, নিয়ম মেনে আবাসনের সামনে চার ফুট জায়গা যেন উপরের দিকেও ছাড়া হয়, যাতে পরে ওই স্থানে পুরসভা বা স্থানীয়দের অর্থ সাহায্যে হেমচন্দ্রের মূর্তি বসানো এবং তার উপরে ছাউনি করা যায়। মূর্তির নীচে হেমচন্দ্রের কবিতার অংশ-সহ তাঁর পরিচিতি লেখা থাকবে।

বিধায়ক বলেন, ‘‘বয়স্ক মানুষজন বলছেন যখন, চেষ্টা করব। কথা বলে দেখব। তবে, প্রোমোটারদের নিজস্ব ব্যবসায়িক কৌশল থাকে। ওঁরা কী করবেন, ওঁদের ব্যাপার।’’ সংশ্লিষ্ট প্রোমোটার সংস্থার তরফে সঞ্জীব সিংহ বলেন, ‘‘আমরাও কবির একটি কবিতার লাইনের অংশ দিয়ে ভবনের নাম রাখতে আগ্রহী। গান-কবিতা আমরাও পছন্দ করি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Poet Heritage

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy