E-Paper

ভোটে ভরাডুবি নিয়ে ক্ষোভের সুর তৃণমূলে

চণ্ডীতলার সুবীর মুখোপাধ্যায় হুগলিতে তৃণমূলের পরিচিত মুখ। তিনি হুগলি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ। কয়েক মাস আগে ‘মেন্টর’ও হন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ১১:০৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোটে হুগলিতে শোচনীয় ফলের কারণ নিয়ে কাঁটাছেড়া চলছে তৃণমূলের অন্দরে। তার মধ্যেই দলের অনেকে বেসুরো গাইতে শুরু করেছেন। যার প্রতিফলন ব্যক্তিগত আলাপচারিতা থেকে সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে। কেউ কেউ আবার নির্দিষ্ট নেতা বা দলের পরামর্শদাতা সংস্থার দিকেও আঙুল তুলছেন।

তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য মনে করছেন, অপ্রত্যাশিত ঝড়ে পরিস্থিতি বেসামাল হলেও সংগঠন মজবুত করা যাবে।

চণ্ডীতলার সুবীর মুখোপাধ্যায় হুগলিতে তৃণমূলের পরিচিত মুখ। তিনি হুগলি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ। কয়েক মাস আগে ‘মেন্টর’ও হন। ফল প্রকাশের পরে তিনি মুখ খুলেছেন দলের স্থানীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, চণ্ডীতলায় ভোটের প্রচারে কল্যাণ তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। কল্যাণের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘‘দলের নেতা-কর্মীদের সাংসদ চাকর-বাকর বলে মনে করেন।’’ সুবীরের অভিমান, কল্যাণ ২০০৯ সালে ভোটে লড়তে হুগলিতে এলে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছেন তিনি। সঙ্গ দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এত দিন নিষ্ঠার সঙ্গে দল করার পরে টিকিটের প্রত্যাশা আমার থাকতেই পারে। সে প্রত্যাশা বেশি করে জাগিয়েছিলেন কে!’’

কল্যাণের প্রতিক্রিয়া, ‘‘ওঁর কথায় গুরুত্ব দিই না। আমি যদি এতই খারাপ, আমার সঙ্গে এত দিন ছিলেন কেন! টিকিট না পেলেই এত ক্ষোভ! কে টিকিট পাবেন, দল ঠিক করে।’’ দলের একাধিক কর্মীর অবশ্য বক্তব্য, সুবীরের কথাকে তাঁরা সমর্থন করেন। উত্তরপাড়ায় এ বার তৃণমূল প্রার্থী করেছিল কল্যাণের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি জিততে পারেননি।

শ্রীরামপুরের বাসিন্দা, আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় আবার সমাজমাধ্যমে অভিমান প্রকাশ করেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি। তাঁর অভিমান, দলের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কর্মীরা অবজ্ঞা ও অবহেলার শিকার হয়েছেন। শুধুমাত্র নিজস্ব সম্পত্তি ও শ্রীবৃদ্ধির লক্ষ্যে যাঁরা পরবর্তী সময়ে দলে এসেছেন, প্রাধান্য পেয়েছেন তাঁরা। সমাজমাধ্যমে রীতিমতো সক্রিয়, বিরোধীদের চাঁচাছোলা আক্রমণে পটু অনেক তৃণমূল কর্মীই কার্যত চুপ করে গিয়েছেন। কারও ঝোঁক যে বিজেপির প্রতি, সমাজমাধ্যমে মন্তব্যে বিলক্ষণ বোঝা যাচ্ছে। চুঁচুড়ার সদ্য প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার টিকিট না পেয়ে বিভিন্ন সময়ে দলীয় সংগঠন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। কখনও আক্রমণ করেছেন দলীয় সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বহু নেতা-কর্মী পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন বলে তৃণমূলের অন্দরেই বিস্তর চর্চা চলছে।

পরামর্শদাতা সংস্থার দল পরিচালনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে সমালোচনা করেছেন বলাগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক অসীম মাজি। তিনি লিখেছেন, ‘রাজনীতি কোনও কর্পোরেট সংস্থা নয় যে, ল্যাপটপ আর ডেটা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে’। এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

দলের হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরিন্দম গুঁইন চাঁপদানিতে এবং আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রামেন্দু সিংহরায় তারকেশ্বরে হেরেছেন। হার প্রসঙ্গে রামেন্দু গণনার সময় ইভিএম যন্ত্রের কারসাজি হয়েছে বলে দাবি করছেন। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘অন্তর্ঘাত হয়ে থাকতে পারে। তবে তাতে বেশি ক্ষতি হয়নি।’’ অরিন্দমও গণনার সময় যন্ত্রের ব্যাটারি ক্ষয় কার্যত না হওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC Chinsurah

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy