এ বার কংগ্রেস ‘একলা চলো’ নীতি নিয়েছে। তার পরেই গ্রামীণ হাওড়ার সাতটি বিধানসভা আসনের জন্য ৫৭ জন প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন করেছেন বলে প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রের খবর। সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্র থেকে। সেখান থেকে মোট ১৫ জন প্রার্থী হতে চেয়েছেন বলে জেলা কংগ্রেস সূত্রের খবর। তবে, প্রার্থী-তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘‘একা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই আমরা তা সঠিক হয়েছে কি না, জানতে হাওড়া-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কর্মী-বৈঠক করি। কর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে সোৎসাহে সমর্থন করেন।’’ এরপরেই প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়। প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রের খবর, বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল আবেদনপত্র জমা পড়ে। প্রতিটি আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।প্রদেশ থেকে নামের সুপারিশ এআইসিসি-তে যাবে। সেখান থেকেই প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে।
হাওড়া গ্রামীণ জেলা কংগ্রেস সূত্রের খবর, সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্র থেকে। সবচেয়ে কম বাগনান থেকে। সেখান থেকে মোট ছ’জন প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন করেছেন। দলের তূলনামূলক শক্ত ঘাঁটি আমতা থেকে প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন করেছেন ১৩ জন। ২০২১ সাল পর্যন্ত আমতাই ছিল জেলার একমাত্র কংগ্রেসের দখলে থাকা বিধানসভা কেন্দ্র। এই বিধানসভা কেন্দ্রেই জেলার একমাত্র পঞ্চায়েতে বাম ও আইএসএফের সঙ্গে জোট করে কংগ্রেস পঞ্চায়েত চালাচ্ছে। প্রধান কংগ্রেসেরই।
তবে, দলের একাংশ মানছেন, জেলা জুড়ে সামগ্রিক ভাবে সাংগঠনিক দিক থেকে তাঁরা বেশ দুর্বল। বহু বুথে তাঁদের কোনও কমিটিই নেই। তা সত্ত্বেও কী ভাবে দলের প্রার্থী হওয়ার জন্য এত আবেদন জমা পড়ল, সে প্রশ্নের উত্তরে গ্রামীণ জেলা কংগ্রেস সভাপতি আলম দেইয়ান বলেন, ‘‘২০১১ সাল থেকে অন্য দলের সঙ্গে জোট করে বিধানসভানির্বাচনে লড়তে গিয়ে বহু কেন্দ্রে কর্মীরা হাত প্রতীক ভুলতে বসেছিলেন। জেতা-হারা বড় কথা নয়। কংগ্রেসের প্রতীক চেনাতে কর্মীরা যে কতটা উদগ্রীব হয়ে আছেন, প্রার্থী হতে চেয়ে এত আবেদন, তারই প্রমাণ।’’
কংগ্রেস কর্মীদের উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে মাঠে-ঘাটেও। শ্যামপুর থেকে প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন করেছেন সাত জন। কাকে প্রদেশ কংগ্রেস প্রার্থী করবে তা ঠিক হয়নি। কিন্তু প্রার্থীর নামের অংশটুকু ফাঁকা রেখে হাত চিহ্নের দেওয়াল লিখনের হিড়িক পড়েছে শ্যামপুরে। শ্যামপুর ২ ব্লক কংগ্রেস সভাপতিমনজুর আলম বলেন, ‘‘যিনিইপ্রার্থী হোন, হাত চিহ্নের হয়ে জান লড়িয়ে দেব।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)