Advertisement
E-Paper

এসআইআর শুনানিতে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে মৃত্যু হাওড়ার বৃদ্ধের! এক মাস মানসিক চাপে ছিলেন, দাবি পরিবারের

শুক্রবার সকালে ডোমজুড়ের বালি জগাছা ব্লক অফিসে এসআইআর শুনানিতে উপস্থিত হয়েছিলেন বৃদ্ধ। প্লাস্টিকের ব্যাগে নথিপত্র হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ মুখ থুবড়ে পড়ে যান রাস্তায়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৯
SIR Related Death In Bengal

এসআইআর শুনানিতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে হাওড়ার বাসিন্দা মদন ঘোষের। —নিজস্ব ছবি।

ফের এসআইআর শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা! উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরে এ বার প্রায় একই ঘটনা ঘটল হাওড়ায়। পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংযোজন প্রক্রিয়া নিয়ে গত এক মাস ধরে মানসিক চাপে ছিলেন ৬৫ বছরের মদন ঘোষ।

শুক্রবার সকালে ডোমজুড়ের বালি জগাছা ব্লক অফিসে এসআইআর শুনানিতে উপস্থিত হয়েছিলেন বৃদ্ধ। প্লাস্টিকের ব্যাগে নথিপত্র হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ মুখ থুবড়ে পড়ে যান রাস্তায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বালি জগাছা ব্লক অফিসে এসআইআর শুনানিতে অংশ হাজির হয়েছিলেন ডোমজুড় বিধানসভার ২৩৫ নম্বর পার্টের চকপাড়া আনন্দনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধ দীর্ঘ ক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি মাথা ঘুরে পড়ে গেলে কয়েক জন ছুটে যান। তড়িঘড়ি কোনা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেখান থেকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মদনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে হাসপাতালে যান। তাঁদের দাবি, এসআইআরের কারণে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন বৃদ্ধ। বাড়িতে প্রায়শই বলতেন, তাঁকে হয়তো বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই ভয় এবং আতঙ্ক কাটাতে অনেক চেষ্টা করেছেন সকলে। কিছুতেই কিছু হয়নি।

মদনের অকস্মাৎ মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে দুষেছে তৃণমূল। হাওড়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা ডোমজুড় ব্লকের তৃণমূল সভাপতি তাপস মাইতি বলেন, ‘‘মদনবাবুর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়। আজ সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি শুনানির জন্য লাইনে দাঁড়ান। তার পরেই ওই ঘটনা।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এই মৃত্যুর জন্য পুরোপুরি ভাবে দায়ী নির্বাচন কমিশন। বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া করে কমিশন একের পর এক নির্দেশ দিচ্ছে। তাতে সাধারণ মানুষ চাপে পড়ে যাচ্ছেন। তার জেরে এতগুলো মৃত্যু।’’ বিজেপি অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে বিরোধী দলের দাবি, রাজ্যে এসআইআর নিয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করেছে শাসকদলই।

গত ৩ জানুয়ারি জয়নগরের বাসিন্দা নাজিতুল মোল্লার (৬৮) মৃত্যুর জন্য এসআইআর-কেই দায়ী করে পরিবার। ২০০২ সালের তালিকায় নিজের নাম খুঁজে না পেয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন ৬৮ বছরের নাজিতুল মোল্লা। হাসপাতাল থেকে ফিরে নাকে অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থায় শুনানিতে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। বাড়ি ফিরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। কলকাতার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। গত ৬ জানুয়ারি উত্তর ২৪ পরগনার এক প্রৌঢ়ারও একই ভাবে মৃত্যু হয়। রত্না চট্টোপাধ্যায় নামে ওই মহিলা নৈহাটি বিধানসভার জেটিয়া অঞ্চলের বাসিন্দার। শুনানির লাইনে দীর্ঘ ক্ষণ অপেক্ষা করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

অন্য দিকে, শুক্রবার আরও একটি এসআইআর ‘ঘটিত’ মৃত্যুর অভিযোগ উঠে এসেছে। সকালে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার বেলডাঙা এলাকায় একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। মৃতের নাম বলাই দাস। পরিবার তথা শাসকদলের অভিযোগ এসআইআরের আতঙ্কে নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। শুক্রবারই এসআইআরের শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল বলাইয়ের।

SIR West Bengal SIR Death Case Howrah
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy