E-Paper

হেমন্তদের পাশে শরিফ, ভোটের লাইনে পরিযায়ী

ম্যাজিস্টিকের নানানগর এলাকার প্রসিদ্ধ অলঙ্কার ব্যবসায়ী শেখ শরিফ জানান, তাঁদের কারখানায় এ রাজ্যের অন্তত সাড়ে ৭০০ কর্মী রয়েছেন।

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়  , সুশান্ত সরকার 

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২১
শামিম আহমেদ ও শেখ শরিফ (ডান দিকে)।

শামিম আহমেদ ও শেখ শরিফ (ডান দিকে)। নিজস্ব চিত্র ।

এসআইআর বড় বালাই! শরিফ যদি পাশে না দাঁড়াতেন, কয়েকশো মানুষের ভোট দেওয়া হত না। শরিফের ব্যবস্থাপনায় বেঙ্গালুরুর ম্যাজিস্টিক এলাকা থেকে বাসে ওঁরা ফিরেছেন বাড়িতে। দিয়েছেন ‘স্বস্তির’ ভোট। ওঁরা— মানে হুগলির জাঙ্গিপাড়া বিধানসভার ফুরফুরার হেমন্ত বাগেরা। ফুরফুরায় অন্তত ৪০০ ভোটার এ ভাবেই এসেছেন। কেননা, ট্রেনের টিকিট বাড়ন্ত ছিল, বিমানের খরচ জোগাড় করা ছিল কার্যত সাধ্যের বাইরে।

ম্যাজিস্টিকের নানানগর এলাকার প্রসিদ্ধ অলঙ্কার ব্যবসায়ী শেখ শরিফ জানান, তাঁদের কারখানায় এ রাজ্যের অন্তত সাড়ে ৭০০ কর্মী রয়েছেন। বেশির ভাগই ফুরফুরা এবং বীরভূমের মুরারইয়ের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা ভোটের সময় বাড়ি ফেরেন। কিন্তু এ বারের তাগিদ অনেক বেশি। শহিদের কথায়, ‘‘অনেকেরই ধারণা, এ বার ভোট দিতে না পারলে তাঁদের স্থান হবে সরকারি ক্যাম্পে। তাই আতঙ্কে ফুরফুরায় দু’টি এবং মুরারইয়ে একটি বাসে এসেছেন আমার কারখানার কর্মীরা।’’ শরিফ নিজেও ফিরেছেন ভোট দিতে। তিনি এসেছেন বিমানে, সপরিবারে।

হেমন্তের বাড়ি ফুরফুরার দক্ষিণডিহিতে। তিনি বলেন, ‘‘শরিফ পাশে না দাঁড়ালে এ বার ভোট দিতে আসা হত না। কেননা, ট্রেনের টিকিট পাইনি। প্লেনের টিকিটের দাম ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। শরিফই বাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’’ ফুরফুরা থেকে নির্বাচিত হুগলি জেলা পরিষদের সদস্য শামিম আহমেদ বলেন, ‘‘অন্যান্য বারের তুলনায় এ বারের ভোটে অনেক বেশি মানুষ গ্রামে ফিরেছেন। শুধু এসআইআর আতঙ্কই এর কারণ।’’

রাজস্থানের জয়পুরে সোনা পালিশের কাজ করেন পান্ডুয়ার বালিহাট্টার শেখ রমজান। গত লোকসভা ও বিধানসভা বা পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট দিতে আসেননি। এ বার এসেছেন। ভোটও দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘কাজের চাপে ভোট দিতে আসা হয় না। কিন্তু এ বার ভোট না দিলে যদি ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা পড়ে, সেই ভয়ে এলাম।’’ পূর্ব বালিহাট্টার মনিরুল ইসলাম একই কাজ করেন গুজরাতের সুরাতে। মঙ্গলবার তিনি বাড়ি ফেরেন। তাঁর কথায়, ‘‘মূলত ভোট দিতেই এসেছি। এসেছি যখন, দিন সাতেক বাড়িতে কাটিয়ে যাব।’’ মনিরুল জানান, তাঁর প্রায় ১০০ জন বন্ধুবান্ধব ভিন্‌ রাজ্যে কাজ করেন। কেউ গুজরাতে, কেউ রাজস্থানে, কেউ আবার মুম্বইতে। ভোট দিতে সকলেই পান্ডুয়ায় ফিরেছেন।

একই কারণে বলাগড়ের ডুমুরদহ নিত্যানন্দপুর-১ পঞ্চায়েতে বহু পরিযায়ী শ্রমিকও ফিরেছেন। কর্মসূত্রে কেউ থাকেন দুবাই, কেউ মুম্বই, কেউ রাজকোটে। অনেকেই জানান, পরের ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে যেতে পারে, এই আশঙ্কাতেই তাঁরা ফিরেছেন।

তথ্য সহায়তা: বিশ্বজিৎ মণ্ডল

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

migrant labour

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy