রাত প্রায় সাড়ে ১০টা। ‘নো এন্ট্রি’ উঠে যাওয়ায় তখন তীব্র গতিতে দৌড়চ্ছে ট্রাক, লরি। রাত বেশি হওয়ায় পথচলতি লোকজনের সংখ্যাও কম। ঠিক সেই সময়ে খালি পা, আলুথালু পোশাকে টলতে টলতে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে দেখা গেল বছর আঠারোর এক তরুণীকে। মাঝেমধ্যে রাস্তায় পড়েও যাচ্ছিলেন তিনি। তীব্র গতিতে ছুটে যাওয়া লরির এয়ারহর্ন-ও যেন তাঁর কানে ঢুকছে না। এক পথচারী তরুণীকে ওই অবস্থায় দেখে বুঝতে পারেন, যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনায় পড়তে পারেন তিনি। অথবা, আরও খারাপ কিছু ঘটতে পারে। তাই তিনি নিজেই গিয়ে খবর দেন স্থানীয় ট্র্যাফিক পোস্টে। তখন ওই পোস্টের দায়িত্বে ছিলেন এক জন মাত্র ট্র্যাফিক হোমগার্ড। ঘটনাটি জানতে পেরে তিনি আর পদস্থ পুলিশকর্তাদের নির্দেশের অপেক্ষা করেননি। দৌড়ে গিয়েছিলেন তরুণীকে উদ্ধার করতে। এর পরে তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তিরও ব্যবস্থা করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনা ঘটেছে হাওড়ার ব্যাঁটরা থানা এলাকার সানপুর মোড়ে, হাওড়া-আমতা রোডে। সেই রাতে ওই তরুণীকে উদ্ধার করার পরে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তরুণীর বাড়ি দাশনগরের সিটিআই এলাকায়। তিনি মা-বাবার কাছে থাকেন না, থাকেন দিদির বাড়িতে। কিন্তু বছর আঠারোর ওই অবিবাহিতা তরুণী অত রাতে নেশাগ্রস্তের মতো টলতে টলতে খালি পায়ে, আলুথালু পোশাকে কোথা থেকে আসছিলেন? কোথায়ই বা যাচ্ছিলেন? ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ জানিয়েছে, ওই রাতে সানপুর ট্র্যাফিক গার্ডের দায়িত্বে ছিলেন হোমগার্ড চন্দন সাউ। সেই সময়ে আর কোনও অফিসার বা কর্মী ওই গার্ডে ছিলেন না। সেই রাতের ঘটনার কথা জিজ্ঞাসা করায় চন্দন বললেন, ‘‘এক জনের মুখে তরুণীর ওই অবস্থার কথা শুনে আর সিনিয়রদের অনুমতির অপেক্ষা করিনি। নিজেই ছুটে গিয়েছিলাম উদ্ধার করতে। কারণ, ওই সময়ে খারাপ কোনও ঘটনা ঘটে যেতে পারত।’’ চন্দন জানান, ঘোরের মধ্যে থাকায় কথাই বলতে পারছিলেন না ওই তরুণী। নাম-ঠিকানা জানতে চাওয়ায় ফুঁপিয়ে কাঁদছিলেন। দেখে মনে হয়েছিল, তিনি নেশাগ্রস্ত।
চন্দন বলেন, ‘‘অত রাতে এক জন অল্পবয়সি মেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কেন নেশাগ্রস্তের মতো রাস্তায় ঘুরছিলেন, তা আমি জানি না। আমি ওঁকে ট্র্যাফিক পোস্টে এনে বসাই। তার পরে ব্যাঁটরা থানায় ফোন করে বলি, তরুণীকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। এর পরে থানার একটি গাড়ি এসে ওঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এর বেশি কিছু জানি না।’’
অভিযোগ, ব্যাঁটরা থানার পুলিশ ওই তরুণীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েই কার্যত দায় সেরেছে। তাঁর ঠিক কী হয়েছিল, কেন হয়েছিল, অত রাতে কোথা থেকে আসছিলেন, তা জানতে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তদন্ত শুরু করেনি পুলিশ। এ বিষয়ে হাওড়া জেলা হাসপাতালের সুপার নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওই তরুণী সব সময়ে একটি ঘোরের মধ্যে থাকছেন। কোনও মতে নিজের নাম-ঠিকানা জানিয়েছেন। তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। আমরা পরীক্ষা করে দেখছি, ঠিক কী ঘটেছিল।’’
হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘ওই তরুণী কিছুটা সুস্থ হলে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব। তাই এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)