তৃণমূলের যুবনেতা পরিচয় দিয়ে আগেই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ছিল। এ বার ‘আমি সিভিক ভলান্টিয়ার’ বলে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠল ‘তৃণমূল নেতাদের ঘনিষ্ঠ’ এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে শোরগোল এলাকায়। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু ধর্ষণে জড়িত বাকিদের অবিলম্বে ধরার দাবি তুলে উত্তরপাড়া থানার সামনে জিটি রোড অবরোধ করল সিপিএম। শাসকদলকে নিশানা করল বিজেপি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বছর ষোলোর এক নাবালিকা এক বন্ধুর সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া হিন্দমোটর কারখানার ভিতর গিয়েছিল। সেখানে দুই সঙ্গীকে নিয়ে উপস্থিত হন ‘তৃণমূল যুবনেতা।’ তাঁরা ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নাবলিকা তার এক বন্ধুর সঙ্গে ওই এলাকায় গিয়েছিল। অভিযুক্তেরা ওই বন্ধুকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন। তার পর মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ নিয়ে পকসো ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এক জনকে গ্রেফতার করে শ্রীরামপুর আদালতে হাজির করানো হয়। নাবালিকার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
বিজেপির দাবি, তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রথম সারিতে ওই যুবকের উত্তরপাড়া-সহ হুগলি জেলায় শাসকদলের একাধিক নেতার সঙ্গে ছবি রয়েছে সমাজমাধ্যমে। বিজেপি নেতা ইন্দ্রনীল দত্ত বলেন, ‘‘এরা তৃণমূল করে বলে মনে করেছে, যা খুশি তাই করবে!’’
আরও পড়ুন:
শাসকদলের অবশ্য দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও প্রকার সম্পর্ক নেই। স্থানীয় তৃণমূল নেতা কালাচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের দল এখন ক্ষমতায় রয়েছে। তাই অপকর্ম করার জন্য দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়তেই পারে। কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে দোষীদের বিরুদ্ধে। আর একটা কথা, এমন অপকর্ম করতে কাউকে বলে না দল। ‘নির্যাতিতা’র আইনি পরামর্শদাতা বলেন, ‘‘এই রকমের অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসন আগেও কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। এ বারও আশা করি, বিচার পাব।’’
এর আগে হিন্দমোটরের এক ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ধর্ষণকাণ্ডে নাম জড়ানো ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সেই সময় নিজেকে উত্তরপাড়া শহর যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি বলে পরিচয় দেন ওই যুবক।