E-Paper

ট্র্যাফিক বন্ধ না করাতেই কি গতি হারাচ্ছে হাওড়ায় জোড়া রেল সেতুর কাজ

রেলের অভিযোগ, বামনগাছি রেল সেতুর অবস্থা ভয়াবহ। যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু হাওড়া ট্র্যাফিক পুলিশ সেতুটি সম্পূর্ণ বন্ধ না করায় নতুন সেতুর কাজ শেষ করা যাচ্ছে না।

দেবাশিস দাশ

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫০
অসমাপ্ত: বন্ধ রয়েছে নতুন রেল সেতুর কাজ। হাওড়ার বামুনগাছিতে।

অসমাপ্ত: বন্ধ রয়েছে নতুন রেল সেতুর কাজ। হাওড়ার বামুনগাছিতে। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার।

শুধু কোনা এক্সপ্রেসওয়ের উপরে নির্মীয়মাণ উড়ালপুলই নয়, ট্র্যাফিকের ছাড়পত্র না পাওয়ায় আটকে গিয়েছে হাওড়ার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ রেল সেতুর কাজ। সেই সেতু দু’টি হল —বাঙালবাবু সেতু বা চাঁদমারি সেতু এবং দুই, বামনগাছি সেতু বা বেনারস রোড সেতু। যদিও হাওড়া সিটি পুলিশের বক্তব্য, হাওড়ায় সড়ক খুবই কম। ফলে সব জায়গা বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। তা হলে পুরো হাওড়ায় যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে চরম ভোগান্তি হবে।

রেলের অভিযোগ, বামনগাছি রেল সেতুর অবস্থা ভয়াবহ। যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু হাওড়া ট্র্যাফিক পুলিশ সেতুটি সম্পূর্ণ বন্ধ না করায় নতুন সেতুর কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। একই অবস্থা চাঁদমারি সেতুর। ট্র্যাফিকের ছাড়পত্র না পাওয়ায় সেই সেতুর কাজও থমকে।

পূর্ব রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভগ্নপ্রায় বামনগাছি রেল সেতু এবং ওই বছরেরই জুন মাসে চাঁদমারি রেল সেতুর পাশে নতুন সেতু নির্মাণ শুরু করে রেল। রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বামনগাছি সেতু তৈরি হয়েছিল ১৯০৪ সালে আর চাঁদমারি সেতু তৈরি হয়েছিল ১৯৩৩ সালে। হাওড়া স্টেশনের দেড়-দু’কিলোমিটারের মধ্যে এই দু’টি প্রাচীন সেতুর নীচ দিয়ে গিয়েছে পূর্ব রেলের মেন ও কর্ড লাইন। প্রতিদিন শতাধিক মেল, এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেন যাতায়াত করে এর নীচ দিয়ে। স্বভাবতই এই দু’টি প্রাচীন সেতু বদলে নতুন তৈরির প্রয়োজন। বামনগাছি সেতুর জন্য প্রায় ৭১ কোটি টাকা এবং চাঁদমারি সেতুর জন্য ১৭৪ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ হয়।

কেব‌‌্ল টানা চার লেনের চাঁদমারি সেতু উত্তর ও মধ্য হাওড়ার মাঝামাঝি তৈরি হওয়ায় আগামী দিনে হাওড়ায় ট্র্যাফিক ব্যবস্থার যে আমূল পরিবর্তন হবে, মানছেন হাওড়া ট্র্যাফিক পুলিশের কর্তারা।

একই ভাবে বেনারস রোডের উপরে রেলের নতুন বামনগাছি সেতুর কাজ শেষ হলে বেনারস রোডে যানজট যে অনেকটাই কমবে, স্বীকার করছেন সবাই। তার পরেও গত সাত বছর ধরে চলা দু’টি সেতুর কাজ শেষ হচ্ছে না কেন? হাওড়ার পূর্ব রেলের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) বিশাল কপূর জানান, সড়ক পথ চালু রেখে এই ধরনের সেতু তৈরির জন্য ট্র্যাফিকের বিকল্প পথ করে দেওয়ার প্রয়োজন। হাওড়া সিটি পুলিশ সেটা না করায় কাজে এত সময় লাগছে। ডিআরএম বলেন, ‘‘সেতুর শেষ পর্যায়ের কাজে ৩-৪ মাস টানা ট্র্যাফিক ব্লক করতে হবে। এ নিয়ে একাধিক বার রাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এখনও সবুজ সঙ্কেত পাইনি। তাই দু’টি সেতুই শেষ পর্যায়ে এসে আটকে আছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’’

হাওড়ার ডিসি ট্র্যাফিক অসীম খান বলেন, ‘‘এক দিকে বিদ্যাসাগর সেতুর কেব‌‌্ল মেরামতির জন্য প্রতি ছুটির দিন ট্র্যাফিক পুরো বন্ধ থাকছে। কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে উড়ালপুলের কাজের জন্য নির্মাণকারী সংস্থা প্রায়ই ট্র্যাফিক ব্লক চাইছে। এ দিকে রেল দু’টি সেতুর জন্যে আলাদা করে ট্র্যাফিক ব্লক চাইছে। হাওড়ায় এত বিকল্প রাস্তা নেই। ফলে এ ভাবে রাস্তা বন্ধ করলে পুরো হাওড়া স্তব্ধ হয়ে যাবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bridge closed traffic jam

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy