বন্ধ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে উদ্ধার হল এক প্রৌঢ়ার দেহ। শনিবার সকালে, হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকার ব্রজনাথ লাহিড়ী লেনে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম স্বপ্না দাস (৬০)। গত দু’মাসের মধ্যে হাওড়ায় এটি তৃতীয় ঘটনা, যেখানে একা থাকা কোনও বয়স্কের মৃত্যুর কয়েক দিন পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চেই শিবপুর থানা এলাকার দু’টি জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেছিল। একটি ঘটনায় বন্ধ ঘর থেকে এক বৃদ্ধ এবং অন্য ঘটনায় এক বৃদ্ধা ও তাঁর মেয়ের জোড়া দেহ উদ্ধার হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ব্রজনাথ লাহিড়ী লেনের ওই বহুতল আবাসনের তেতলার ফ্ল্যাট থেকে এ দিন কটু গন্ধ পেয়ে স্থানীয় লোকজন চ্যাটার্জিহাট থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে ঢুকে দেখে, খাবার ঘরের মেঝেয় ওই প্রৌঢ়া পড়ে রয়েছেন। দেহে পচন ধরেছে। পুলিশের ধারণা, দিন তিনেক আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এর পরেই পুলিশ প্রৌঢ়ার ভাই দীপক প্রামাণিককে খবর দেয়। পুলিশ জানায়, জগাছার জিআইপি কলোনির ধাড়সা ব্রাহ্মণপাড়ার বাসিন্দা দীপক। আগে ভাইদের সঙ্গে সেখানেই থাকতেন প্রৌঢ়া।
স্বপ্নার ভ্রাতৃবধূ শেফালি প্রামাণিক বলেন, ‘‘দিদি তিন বছর আগে ফ্ল্যাটটি কেনেন। একাই থাকতেন। পদবি বদলে প্রামাণিক থেকে দাস হয়ে যান। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত হাওড়ার একটি নার্সিংহোমে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ করলেও তা ছেড়ে দেন। ইদানীং লোকের বাড়িতে রান্নার কাজ করতেন।’’ তিনি জানান, সপ্তাহখানেক আগেও স্বপ্নাদেবীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, একাকিত্বের থেকে অবসাদ, শারীরিক অসুস্থতা এবং বয়সজনিত কারণেই মৃত্যু হয়েছে প্রৌঢ়ার।
হাওড়ায় থাকা একাকী বয়স্কদের দেহ উদ্ধারের ঘটনা কি তবে বাড়ছে? হাওড়া সিটি পুলিশের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, দিনে দিনে হাওড়ায় ফ্ল্যাটের সংখ্যা বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে একা থাকা বয়স্কদের সংখ্যাও। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের দেখাশোনার জন্য হাওড়া সিটি পুলিশের ‘শ্রদ্ধা’ নামে একটি গোষ্ঠী আছে। কিন্তু অনেকেই তার সদস্য নন। ফলে তাঁদের উপরে পুলিশি নজরদারিও সম্ভব হচ্ছে না। তবে থানা থেকে বয়স্কদের যাতে খোঁজখবর নেওয়া হয়, পুলিশ সেই চেষ্টা করছে।