Advertisement
E-Paper

৩০ বিধায়কের সমর্থন পেলেই বিরোধী দলনেতা হওয়া যায়, ঋতব্রতের দরকার অন্তত ৪১! দল দখলে অন্যান্য অঙ্ক কী

বুধবার ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে চেয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। ঋতব্রত ছাড়া ওই চিঠিতে ৫৮ জন বিধায়কের সই রয়েছে। সেখানে শুধু বিরোধী দলনেতা নন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কারা তৃণমূলের উপদলনেতা হবেন, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ১৫:৩২
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

বড় কোনও অঘটন না-ঘটলে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হতে চলেছেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে বিরোধী দলনেতা করতে চেয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়েছেন ৫৯ জন বিধায়ক। তাঁদের মধ্যে ৫৭ জন তৃণমূল বিধায়ক। অপর দু’জন দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপন সাহা।

২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি পেতে হলে কোনও দলকে ১০ শতাংশ আসন পেতেই হবে। সেই হিসাবে কোনও দল ৩০টি আসন পেলেই সেই দলের কেউ বিরোধী দলনেতা হিসাবে বিবেচিত হতে পারেন। গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। ওই অঙ্কের নিরিখে বিরোধী দলনেতা হতে ঋতব্রতের অন্তত দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক জেলবন্দি রয়েছেন। তাই বিধানসভায় এখন তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা কমে ৭৯ হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ৪১ জন বিধায়কের স্বাক্ষর থাকলেই বিরোধী দলনেতা হতে পারতেন ঋতব্রত।

কার্যক্ষেত্রে উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা দেখতে চেয়ে স্বাক্ষর করেছেন মোট ৫৯ জন বিধায়ক। তাই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ১৮ বিধায়কের সমর্থন পেয়েছেন ঋতব্রত। পরিষদীয় নিয়ম মেনে বিরোধী দলনেতা হতে কোনও বাধা নেই তাঁর।

বিদ্রোহী শিবিরে নেই তৃণমূলের ২১ জন বিধায়ক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ঋতব্রতদের ক্ষেত্রে দলত্যাগবিরোধী আইন কার্যকর হবে কি না। নিয়ম বলছে, দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কের সমর্থন বিদ্রোহীদের সঙ্গে থাকলে তাঁদের উপর দলত্যাগবিরোধী আইন কার্যকর হবে না। ঋতব্রতদের কাছে তার অনেক বেশি বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। তাই তাঁরা নিজেদের স্বতন্ত্র গোষ্ঠী বা ব্লক হিসাবে তুলে ধরতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নিয়ম তাঁদের ক্ষেত্রে বাধা হবে না।

বুধবার ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে চেয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। ঋতব্রত ছাড়া ওই চিঠিতে ৫৮ জন বিধায়কের সই রয়েছে। সেখানে শুধু বিরোধী দলনেতা নন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কারা তৃণমূলের উপদলনেতা হবেন, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং শিউলি সাহার নাম উপদলনেতা হিসাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। মুখ্য সচেতক হিসাবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে আখরুজ্জামানের নাম। সেই চিঠি গ্রহণ করেছেন স্পিকার। উল্লেখ্য, তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের জমা দেওয়া সেই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সভানেত্রী হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

সংক্ষেপে
  • গত কয়েক দিন ধরেই সইকাণ্ড নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছিল তৃণমূলের অন্দরে।
  • সইকাণ্ড নিয়ে চাপানউতরের মধ্যে জল্পনা জোরালো হতে থাকে, তৃণমূল কি ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে?
  • বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত।
সর্বশেষ
৩৯ মিনিট আগে
TMC Mamata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy